• ‘সিভি আনন্দ বোসকে কী ভাবে সরানো হয়েছে আমি জানি...’, ধর্নামঞ্চ থেকেই কারণ ব্যাখ্যা মমতার
    এই সময় | ০৭ মার্চ ২০২৬
  • ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফা নিয়ে আচমকা সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। BJP-কে কটাক্ষ করে শনিবার তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন,‘কাউকে টার্ম কমপ্লিট করতে দিচ্ছে না। থ্রেট করা হয়েছে ওঁকে।’ এখানেই শেষ নয়, বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন তিনি।

    বৃহস্পতিবারই বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে হঠাৎই সিভি আনন্দ বোসের (CV Ananda Bose) ইস্তফা দেওয়ার খবর আসে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হচ্ছেন আরএন রবি (RN Ravi)। এর পরেই রাজ্যপাল পরিবর্তন নিয়ে সরব হয় তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘটনার দিন X হ্যান্ডলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘আমি স্তম্ভিত। আরএন রবিকে বাংলার নতুন রাজ্যপাল করা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে সবে মাত্র জানালেন। কিন্তু রীতি অনুযায়ী তিনি আমার সঙ্গে কোনও পরামর্শ করেননি।’

    এ দিনও ধর্নামঞ্চ থেকে সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘এখানকার রাজ্যপাল আনন্দ বোসকে কী ভাবে সরানো হলো দেখলেন তো। কী ভাবে হয়েছে আমি সব জানি। ভয় দেখানো হয়েছে ওঁকে।’ এর কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ এনেছেন গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন,‘ভোটের আগে রাজভবনটা বিজেপির পার্টি অফিস হবে। ওখান থেকে টাকা বিলি হবে। দিল্লিতে যারা বসে আছে, তারা সব বিন তুঘলকের জ্যাঠার জ্যাঠামশাই। কোনও নৈতিকতা নেই। কাউকে ভয় দেখাচ্ছে ইমপিচমেন্ট করে দেবো। কাউকে আবার বলছে প্রোমোশন করিয়ে দেবো। কাউকে টার্ম পূরণ করতে দিচ্ছে না। ধনখড়কে নিয়ে গেল ভোটের পরে। তার পরে উপরাষ্ট্রপতি। তার পরে কী হলো? ধনখড়ের মতো অবস্থা করে দিল আনন্দ বোসের।’

    নবনিযুক্ত রাজ্যপালের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আগেই উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন তিনি বলেন,‘ নতুন যিনি এসেছেন, তিনি তো কোর্টের কাছ থেকে অনেক কিছু শুনেছেন। নতুন রাজ্যপাল বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। জেনে রাখুন বাংলা অন্য। তামিলনাড়ুতে যা করেছে, স্ট্যালিনকে অনেক জবাব দিতে হয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন তামিলনাড়ু ও বাংলা এক নয়।’

    তৃণমূল সুপ্রিমোর মতে, বাংলা ভাগই বিজেপির লক্ষ্য। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘কাল আমি একটি টুইটে দেখলাম, দিল্লির বাবুরা খাইয়েছে, বাংলা-বিহার ভাগ করে নাকি ইউনিয়ন টেরিটরি করবে। বাংলায় হাত দিয়ে দেখ। ওদের ধান্দাবাজি হচ্ছে বাংলা ভাগ করার, আবার একটা বঙ্গভঙ্গ করার। বিহার ভাগ করে ঝাড়খণ্ড করেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার যেখানেই সরকারে থাকবে, সেখানেই লুটেপুটে খাবে। বঙ্গভঙ্গ করার জন্য ভোট কাটার প্ল্যান? আগে এপস্টিন সামলান, তার পরে বঙ্গভঙ্গ করবেন।’ বাংলায় মানুষের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন,‘ERO-রা সব নথি পেয়ে বৈধ হিসেবে গ্রহণ করার পরে দিল্লি থেকে নাম কাটা হচ্ছে ভোটারদের।’

  • Link to this news (এই সময়)