রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) শিলিগুড়ি সফর শেষ হতে না হতেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলল বিজেপি। শনিবার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শিলিগুড়ি আসেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President of India)। সেই অনুষ্ঠানের পরে শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবে বিজেপির একটি সাংবাদিক বৈঠক ছিল। ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই উঠল বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি।
শনিবার বাংলা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে বলতে শোনা যায়, ‘মমতাজি আমার ছোট বোনের মতো। জানি না হয়তো আমার উপর কোনও কারণে রাগ করেছেন, তাই হয়তো উনি ওখানে অনুষ্ঠান করছেন। কোনও ব্যাপার না। কোনও অভিযোগ-অনুযোগ নেই।’
এর পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, ‘বর্তমানে রাজ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। রাজ্যের সরকার এবং সরকারি দলের নেতারা প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করছে। এ বার তো রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা হলো। এখানে আইন-শৃঙ্খলা কিছু নেই, গণতন্ত্র আক্রান্ত। সাংবিধানিক নিয়মেই রয়েছে, গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে অনেক সময় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হয়। আমি ভারত সরকারের কাছে আবেদন করব বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত। রাষ্ট্রপতিও যেন বিষয়টি নিয়ে ভাবেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি না হলে এই রাজ্যে হিংসাবিহীন নির্বাচন করানো সম্ভব নয়।’
যদিও বিজেপির এই দাবি নিয়ে পাল্টা এক হাত নেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। এ সব বিজেপির ‘পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি’ বলে খোঁচা দেন তিনি। গৌতম দেব বলেন, ‘সবই তো বোঝা যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি পৌঁছতে পারলেন না, তার আগেই বিজেপি সাংসদ রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি করছেন। আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি পদের একটা গরিমা রয়েছে। বিজেপি নির্বাচনের স্বার্থে সেই গরিমাকে নীচে নামানোর চেষ্টা করছে। তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, এটা ঠিক নয়।’