শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা ঠিক ছিল না? রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আপ্যায়নে সঠিক প্রোটোকল মানা হয়নি? শনিবার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল পরিষদের অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে গোটা অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু নথি শেয়ার করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে মমতা লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল পরিষদ একটি বেসরকারি সংস্থা। শিলিগুড়িতে নবম আন্তর্জাতিক আদিবাসী সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে লিখিত ভাবে জানায় যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজকের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। টেলিফোনেও উদ্বেগ জানানো হয়েছিল।’ এই সংক্রান্ত নথি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া হয়েছে।
এ দিন সকালে শিলিগুড়ির এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা (অনুষ্ঠান করার) নেই। এখানে তো ৫ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!’ এর পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মমতাদি আমার ছোটবোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক...কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।’ এই অনুষ্ঠানের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা হয়নি রাজ্য প্রশাসনের তরফে বলে দাবি করেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও। উল্লেখ্য, বিধাননগরের একটি মাঠেই প্রথমে সভার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসনের কাছে। কিন্তু নিরাপত্তা জনিত কারণে বিধাননগরের পরিবর্তে শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা সংলগ্ন গোঁসাইপুরের একটি মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
অন্য দিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা লেখেন, ‘শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র, দার্জিলিং-এর জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের অনুমোদিত লাইনআপ অনুসারে উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী লাইনআপ বা মঞ্চ পরিকল্পনার অংশ ছিলেন না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও প্রোটোকল লঙ্ঘন হয়নি।’
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ভিডিয়ো শেয়ার করে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার আজ তাদের নৈরাজ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে আরও নিম্নস্তরে নেমে গেল। প্রোটোকলের প্রতি চরম অবহেলা দেখিয়ে তারা ভারতের রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে।’ পাল্টা মমতা এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘বিজেপি তার নিজস্ব দলীয় এজেন্ডা পূরণের জন্য দেশের সর্বোচ্চ চেয়ারকে অসম্মান এবং অপব্যবহার করছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’