কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। সেই যোগদানের পর এই প্রথম দলের মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতীক বলেন, ‘প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাদের নেত্রী, বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি।’ পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থিত না থাকলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁর কথায়, এত বড় মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে তিনি অভিভূত।
এরপরই রাজনৈতিক সুর চড়ান প্রতীক উর রহমান। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ‘ব্র্যান্ড’ এবং বাংলার মানুষ তাঁকে চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করে বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারের অনেক জ্ঞান আছে, কিন্তু কাণ্ডজ্ঞান নেই।’ তাঁর অভিযোগ, মানুষের স্বার্থে কাজ করার বদলে নির্বাচন কমিশন বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন। প্রতীক বলেন, ‘যতই চেষ্টা করুন, ভ্যানিশ কুমার তৃণমূলকে ভ্যানিশ করতে পারবেন না। বরং ২০২৬-এর পরে বাংলার মানুষই পদ্মফুলকে ভ্যানিশ করে দেবে।’ সেইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘কাগজ আমরা দেখাব না।’
প্রতীক উর রহমানের বক্তব্যের পর ধরনামঞ্চে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি চালুর ষড়যন্ত্র চলছে। এসআইআরের ক্ষেত্রে মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ঋতব্রতর দাবি, তৃণমূল শুধু নিজেদের ভোটারের জন্য নয়, সিপিএম বা নোটা ভোটারদের অধিকার রক্ষার জন্যও এই আন্দোলন করছে। ধরনামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রাজা রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের অপমান করেছে বিজেপি। শেষে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে এই আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত আমাদের শক্ত করতে হবে।