এই সময়: গত সোমবার বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র উদ্বোধন করতে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য জমি না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। আর শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত অসহযোগিতার অভিযোগ তুললেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এ দিন তিনি হুগলির শ্রীরামপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখান থেকে রেলমন্ত্রীর দাবি, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ার কারণে রেলের কমপক্ষে ১০টি প্রকল্পের কাজ বাংলায় আটকে আছে। যদিও তাঁর এই দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল।
শনিবার শ্রীরামপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা থেকে অশ্বিনী বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে রেলের কমপক্ষে ১০টি প্রকল্পের কাজ আটকে আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তারকেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে দেশপ্রাণ।’ আক্ষেপের সুরে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এ রাজ্যে রেলের প্রকল্পের জন্য মাত্র ২৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হলেও, ৭৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা যায়নি। যে কারণে, রেলের অনেক প্রকল্প থমকে আছে। তার পরেও, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে রেলের কিছু প্রকল্পের কাজ হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালে রেল ও মেট্রো রেলের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে বলেও এ দিন দাবি করে রেলমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘বাংলায় রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করেছে। আর ৯৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু রেলের উন্নতিতে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেটা পাওয়া যাচ্ছে না।’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘যদি বাংলার মানুষের প্রতি আপনার কোনও দায়বদ্ধতা থাকে, তা হলে রেলমন্ত্রককে জমি দিয়ে সহযোগিতা করুন।’
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এবং বাংলার আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও এ দিন সরব হতে দেখা যায় অশ্বিনীকে। জমি সংক্রান্ত অশ্বিনীর অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এক বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা বলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো বারংবার কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্ট কার্ড পেশ করতে বলছে। তা হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বাংলার উন্নয়নের জন্য ঠিক কতটা উদ্যোগ নিয়েছে তারা। সেই রিপোর্ট কার্ড এখনও সামনে আসেনি। অশ্বিনী বৈষ্ণবও শ্রীরামপুরের সভা থেকে হাওয়ায় কিছু অভিযোগ ছুড়ে দিয়ে গিয়েছেন। যার কোনও ভিত্তি নেই। পশ্চিমবঙ্গে রেলের যেটুকু কাজ হয়েছে, তা সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন।’
শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের গান্ধীমোড়ে পরিবর্তন যাত্রায় হাজির ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দুর্নীতি, বেকারত্ব ও সন্ত্রাস থেকে মুক্তি চায়।’ তাঁর কথায়, ‘বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এবং বিধানসভা ভোটে তৃণমূল সরকারকে বদলানোর লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।’ বিজেপি ক্ষমতায় এলে স্বচ্ছ প্রশাসন ও উন্নয়নে নজর দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে পরিবর্তন যাত্রায় সামিল হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূলকে। এ দিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িতে পরিবর্তন যাত্রায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মতলায় ধর্নায় বসাকে। তিনি বলেন, ‘এখন থেকেই ধর্নায় বসা প্র্যাকটিস করছেন উনি। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের পরে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। তখন মমতার ধর্নায় বসা ছাড়া আর কোনও কাজ থাকবে না।’