এই সময়: ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায় বসবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণার পর থেকে ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব পড়েছিল গত বৃহস্পতিবার থেকেই। রাস্তার একদিকে মঞ্চ বাঁধা শুরু হওয়ার আগে থেকেই পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ, এই তৎপরতার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না অন্য সময়ে। তাই প্রশ্ন উঠছে, এই তৎপরতা কি আর পাঁচটা সাধারণ দিনে দেখানো যায় না?
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলকে কেন্দ্র করে জওহরলাল নেহরু রোডের দু’পাশের রাস্তা সাফাই শুরু করে পুরসভা। পুরসভার বেশ কয়েকটি ছোট গাড়ি রাস্তার যত্রতত্র পড়ে থাকা কাগজ, প্লাস্টিক ও অন্য আবর্জনা তুলতে শুরু করে। আবার মেট্রো সিনেমা ও তার উল্টো দিকে মেট্রো চ্যানেলের মধ্যের বুলেভার্ডের একাংশ, যা সারা বছর ব্যবহৃত হয় ‘মুক্ত শৌচালয়’ হিসেবে, সেখানে পুলিশ বসিয়ে দেয় গার্ডরেল। আর পুরসভা এই ‘দুর্গন্ধময়’ এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে তিন বেলা যে ভাবে ফিনাইল আর ব্লিচিং পাউডার ছড়াচ্ছে, তাতে আগের পরিবেশটাই উধাও।
সারা বছর মেট্রো চ্যানেলের গা–বরাবর পার্ক করা থাকে বেশ কিছু বেসরকারি বাস। একই ছবি উল্টো দিকের ফুটপাথেও। মেট্রোগলি সংলগ্ন রাস্তায় ‘বিরতি’ নিতে দিনভর দাঁড়িয়ে থাকে একাধিক হাওড়াগামী মিনিবাস। গত দু’দিন সে সব গায়েব। বাসের ‘বেআইনি’ পার্কিং নেই, নেই বাইরের গাড়ি ও বাইকের অস্থায়ী পার্কিং কিংবা হলুদ ট্যাক্সি ও ক্যাবের অযথা ভিড়। ফলে মেট্রো চ্যানেল সংলগ্ন রাস্তা পুরো বন্ধ করে দিয়ে মেট্রো সিনেমা সংলগ্ন রাস্তাটিকেই গার্ডরেল দিয়ে দু’ভাগ করে পুলিশ ‘বোথ–ওয়ে’ করার পরেও নেই অকারণ যানজট।
এই এলাকায় বরাবর ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে থাকেন হকাররা। যা ফুটপাথ থেকে উপচে পড়ে মাঝেমধ্যেই রাস্তায় উঠে আসে। বৃহস্পতিবার থেকেই সে সবও উধাও। কেসি দাসের মোড় থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত থিকথিক করছে উর্দিধারীদের ভিড়। মেট্রো সিনেমার দিকে হকারদের বেশ কিছু স্টল তুলে দেওয়ায় ধর্নামঞ্চের উল্টো দিকের রাস্তার ফুটপাথ জানান দিচ্ছে, তা পথচারীদেরই জন্য। একই ছবি মেট্রো চ্যানেল লাগোয়া ফুটপাথেরও। তবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানকার সুলভ শৌচালয়টি।
মেট্রো গলির হকারদের অভিজ্ঞতা, সারা দিন ধরে হাওড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মতলা রুটের মিনির অলিখিত ‘স্ট্যান্ড’ হয়ে ওঠে ধর্মতলা মেট্রোর ১ নম্বর গেট লাগোয়া রাস্তা। ওই সব বাসের চালক, কন্ডাক্টরদের জন্য কোনও শৌচালয় না থাকায় মূলত তাঁরা এবং পথচারীরা ওই গোটা এলাকাকেই মুক্ত শৌচালয় বানিয়ে ফেলেছেন। মেট্রো চ্যানেলের গায়ের ট্র্যাফিক পুলিশের টেন্টে হয়তো পুলিশ থাকে, কিন্তু রাস্তার দু’পাশে দিনের ব্যস্ত সময়েও তাঁদের দেখা মেলা ভার। অথচ এখন শহরের প্রাণকেন্দ্রের ছবিটা যেন রাতারাতি বদলে গিয়েছে।
সৌজন্যে ধর্নামঞ্চ।