• ঘোষণার পরেই অ্যাকাউন্টে ঢুকল দেড় হাজার টাকা, শনিবার থেকেই চালু যুবসাথী
    এই সময় | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যে ভোট ঘোষণার মুখে বড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বাজেটে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছিল। তারপরে ফেব্রুয়ারিতেই নবান্ন থেকে মমতা ঘোষণা করেছিলেন, ১ এপ্রিল থেকে যুবসাথী প্রকল্প চালু হয়ে যাবে। এ বার ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলের ধর্নামঞ্চ থেকে বড় চমক দিয়ে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, এ দিন থেকেই রাজ্যে যুবসাথী প্রকল্প চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই যুবসাথী প্রকল্পে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১,৫০০ টাকা ঢুকতে শুরু করে।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্যাম্প করে যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আগ্রহী যুবক–যুবতীদের আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শনিবার মেট্রো চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে জানিয়েছেন, ৯০ লক্ষ থেকে ১ কোটি আবেদনপত্র জমা পড়েছে। মেট্রো চ্যানেলে এ দিন সকালে ধর্না কর্মসূচি শুরু হতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, পয়লা এপ্রিল থেকে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে যাবে। কিন্তু রবিবার আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস রয়েছে। তার উপহার হিসেবে আমরা ১ এপ্রিল, এই তারিখ একটু পরিবর্তন করে ঘোষণা করছি, আজ (শনিবার) থেকেই অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে। ২১ থেকে ৪০ বয়সি যাঁরা আছেন, তাঁদের প্রায় ৯০ লক্ষ থেকে ১ কোটি দরখাস্ত করেছেন।’

    রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্যাম্প করে যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনপত্র জমা নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। মমতার শনিবার থেকেই যুবসাথী প্রকল্প চালু করে দেওয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ভোটের জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিজেপি এই কাজ করে না। বিজেপির উপরে ভরসা রাখুন, যুবকদের কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন হবে।’

    এনডিএ জোট বিহারে ভোটের মধ্যেই ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, ভোট মিটে যেতেই সেই টাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিহারের এনডিএ–র ওই প্রকল্পকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, ‘ভোটের আগে ১০ হাজার টাকা চুপি চুপি দেওয়া হয় যখন, তখন ইলেকশন কমিশনবাবু ঠোঁটে লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে রেখেছিলেন। ভোটের আগে ১০ হাজার, ভোটের পর বুলডোজ়ার! এখন ওই টাকা মাসে মাসে পায় কি না, গিয়ে দেখুন। বেচারা নীতীশ কুমার। ভোটের আগে ওবিসি নিয়ে রাজনীতি, ভোটের পরে হয়েছে দিল্লিবাসী। যে গিয়েছে বিজেপির খপ্পরে, সেই গিয়েছে।’

    গেরুয়া শিবির ক্ষমতায় এসে রাজ্যে বেকার সমস্যার সমাধান করবে বলে শুভেন্দু প্রতিশ্রুতি দিলেও মমতার দাবি, তৃণমূল ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমিয়েছে। মেট্রো চ্যানেলে মমতা বলেন, ‘আমরা ৪০ লক্ষ ছেলেমেয়েকে স্কিল ট্রেনিং দিয়েছি। ১০ লক্ষ চাকরি পেয়ে গিয়েছে। ১০ হাজার ছেলেমেয়েকে জুট শিল্পে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের চাকরিতে নেওয়া হবে। শালবনিতে ১,৬০০ মেগাওয়াটের দু’টি পাওয়ার প্লান্ট হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে আমরা দেশে নাম্বার ওয়ান। দুশো কোম্পানি নতুন এসেছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্পে আমরা নাম্বার ওয়ান। ক্ষুদ্র শিল্পেই দেড় কোটি লোক চাকরি করে।’

  • Link to this news (এই সময়)