এই সময়: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত–পোষিত স্কুল ও কলেজের কয়েক লক্ষ শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী ২৫ শতাংশ ডিএ পাওয়ার অধিকারী কি না, তা নিয়ে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট গঠিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি ইতিমধ্যে দু’বার বৈঠকের পরে প্রাপকদের যে হিসেব দিয়েছে, তাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া ডিএ পাওয়ার ব্যাপারে বিশদ ব্যাখ্যা রয়েছে। কিন্তু স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। যার জেরে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের জমা দেওয়া এই নথি–সহ আবেদন জমা পড়তেই আইনজীবী থেকে মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। আবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের জমা দেওয়া আবেদনে বকেয়া ডিএ–র ২৫ শতাংশ মেটানোর জন্য এ বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হলেও বকেয়ার প্রথম দফার টাকা কী ভাবে বা কোন পদ্ধতিতে দেওয়া হবে, সেই ব্যাপারে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি নথিতে।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন পাঁচ জনের কমিটিতে আদালতের তরফে তিন জন থাকলেও বাকি দু’জন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্র। দিল্লিতে এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয় ২০ ফেব্রুয়ারি। সেখানে কী ভাবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে, সেই ব্যাপারে একটি প্রাথমিক পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে। সেই নির্দেশ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা জানাতে ফের ২৮ ফেব্রুয়ারি বৈঠক হয় ওই কমিটির। যদিও বকেয়া ডিএ মেটানোর ব্যাপারে সেখানে রাজ্যের তরফে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও দিশা দেওয়া হয়নি। তবে কমিটির চেয়ারপার্সন নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যের সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসারকে ৩ মার্চের আগে বা ওই দিন হলফনামা মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিশদে জানাতে বলেছেন। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের ৫ ফেব্রুয়ারির নির্দেশ মতোই ডিএ দিতে হবে। ওই কমিটির পরবর্তী বৈঠক হবে ৩ মার্চ।
‘শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ’র সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘বকেয়া ডিএ–সংক্রান্ত সরকারি হিসেবই বলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, রাজ্য সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেবে না। রাজ্য সরকার তাদের অবস্থান বদলাক। না হলে আইনি লড়াই ও রাস্তার লড়াই আরও তীব্রতর হবে।’ অবশ্য ডিএ মামলায় যুক্ত এক আইনজীবীর ব্যাখ্যা, ‘সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথমে সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তরা এই ডিএ পাওয়ার অধিকারী। আর যেহেতু মামলাও করেছেন সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন–তাই কমিটি তাঁদের ব্যাপারে প্রথমে অ্যাসেসমেন্ট করেছে। পরবর্তীতে রাজ্য ম্যাচিং বিজ্ঞপ্তি জারি করলে ওই সুবিধা স্কুল শিক্ষক–কর্মীদেরও দিতে হবে।’