• ধর্মতলায় কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে মানুষগুলি এখানে এসেছেন, তাঁদের জন্যই এই আন্দোলন। অন্যায় কে করল? এরা কি ভোটার নয়? সব কাগজপত্র থাকার পরেও তাঁদের নাম তালিকা থেকে উধাও করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিল্লি দূরে নয়। বাংলার মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য যে কোনও লড়াই করতে প্রস্তুত। এখানে তথ্যগত কোনও অসঙ্গতি নেই। অথচ প্রকৃত ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। দয়া করে এখানকার মানুষকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিন।’

    মমতার দাবি, ভোটার হওয়ার জন্য এত নথির প্রয়োজন নেই। তাঁর কথায়, ‘১৩টি নথি লাগে না, একটি হলেই যথেষ্ট। আধার তো কেন্দ্রীয় সরকারই চালু করেছিল। কিন্তু এখন সেই নথিও মানা হচ্ছে না। কেউ কেউ নিজেকে সুপারম্যান ভাবছেন। কিন্তু মানুষ না থাকলে কোনও ক্ষমতাই টিকে থাকবে না।’ ধর্মতলার মঞ্চে নাম কাটা যাওয়া একাধিক ব্যক্তিকে হাজির করানো হয়। তাঁদের নথিপত্র দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, এঁদের সবার আধার কার্ড রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে আধারও একটি গ্রহণযোগ্য নথি হতে পারে। কিন্তু বিজেপির পক্ষপাতদুষ্ট কমিশনের কারণে সেই নির্দেশও মানা হচ্ছে না।’

    মমতার অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘৫৮ লক্ষ মানুষকে এখনও তালিকায় যুক্ত করা হয়নি। আবার ৬ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম ঢুকেছে। এখন ৪ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মহিলা, কৃষক, মতুয়া, রাজবংশী, তফসিলি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এরা আমার ভোটার। আমাকে কাটবে! চার মাস ধরে বাংলাকে দখল করার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যপাল বদল করা হল। ভয় দেখিয়ে সরানো হল আনন্দ বোসকে। মানুষের প্রাণ নিয়ে এইভাবে খেলবেন না।’ মুখ্যমন্ত্রী বিচারক ও বিচারপতিদের কাছেও আবেদন জানান। তিনি বলেন, ‘মানুষকে ন্যায়বিচার দিন। সংবিধানকে সম্মান করতে হবে। নির্বাচন কমিশন যদি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলকে সন্তুষ্ট করার জন্য কাজ করে, তা হলে গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়বে।’

    কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিরও কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘অধিকার লুট হচ্ছে। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। নোটবন্দি, ভোটবন্দি, গ্যাসবন্দি, সংবিধানবন্দি—সব চলছে। কিন্তু বাংলার মানুষ লড়াই করতে জানে। আমরা প্রমাণ করে দেব।’ তিনি জানান, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে। সেই মিছিলে মহিলাদের হাড়ি, কড়াই, হাতা ও খুন্তি নিয়ে পথে নামার আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা অশান্তির জন্য নয়, প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।’

    একই সঙ্গে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘কয়েক দিনের মধ্যে বারবার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। বড় সিলিন্ডারের দাম ২১০০ টাকা ছুঁয়েছে। ছোট সিলিন্ডার প্রায় ১০০০ টাকা। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই খরচ বহন করা কঠিন।’ রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেওচা-পচামি প্রকল্প চালু হলে এক লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আগামী একশো বছর বিদ্যুতের অভাব থাকবে না। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সর্বত্র বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

    মমতার দাবি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে রাজ্য দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এই খাতে প্রায় দেড় কোটি মানুষ কাজ করছেন। লেদার শিল্পেও লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বহু শিল্প পণ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।’ তিনি জানান, রাজ্যে ছয়টি অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন শিল্প পার্কও তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, ‘বাংলার উন্নয়ন ও সংস্কৃতি নিয়ে কেউ যদি প্রশ্ন তোলে, তা হলে বাস্তব তথ্যই তার জবাব দেবে।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)