• উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখার নির্দেশিকার ‘বয়ান’ ঘিরে উঠছে প্রশ্ন
    এই সময় | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • স্নেহাশিস নিয়োগী

    উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষকতা করলে, বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষকদের খাতা দেখাই দস্তুর। অথচ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ডেপুটি সেক্রেটারিরা এ বার পৌনে সাত হাজার স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।

    উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে ২৭ ফেব্রুয়ারি। তার আগে ডেট এবং নম্বরহীন বিজ্ঞপ্তিতে সংসদের উপসচিবরা বিদ্যালয়ের প্রধানদের লিখেছেন—‘আমাদের রাজ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় শিক্ষক–শিক্ষিকার সংখ্যা অত্যন্ত কম। তাই খাতা দেখা থেকে অব্যাহতির কোনও আবেদনই সংসদের পক্ষে মঞ্জুর করা সম্ভব হবে না।’ বিজ্ঞপ্তির এই বেনজির ‘বয়ান’–এ হতবাক শিক্ষামহল।

    ঠিক এখানেই প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণাংশু মিশ্র বলেন, ‘এই বিজ্ঞপ্তির পরে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে সাত হাজার ছুঁইছুঁই উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলোয় তা হলে বিভিন্ন বিষয় পড়াচ্ছেন কারা! শুধু তাই নয়। গত কয়েক বছর ধরে সংসদ একাদশ–দ্বাদশে বাড়াতে বাড়াতে ৬৪টি বিষয় চালু করেছে। তখন তারা স্কুলে এই শিক্ষক অপ্রতুলতার কথা ভাবেনি কেন?’

    হিসেব অনুযায়ী, গত এক দশকে একাদশ–দ্বাদশে ১৫টি নতুন বিষয় চালু হয়েছে। ২০১৩–য় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশন চালু হয়। ১২ বছরে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। স্কুল সার্ভিস কমিশন গত বছর যে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, তাতে কোথাও সাংবাদিকতা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের শূন্যপদ নেই। যা শুনে বিকাশ ভবনের কর্তারাই বলছেন, উচ্চ মাধ্যমিকে এখন ৬৪টি বিষয়। অথচ এসএসসি ২০২৫–য় একাদশ–দ্বাদশে যে নিয়োগ বিজ্ঞাপন দিয়েছে, তাতে ৩৫টি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের কথা জানানো হছে। ফলে এখন খাতা দেখার ক্ষেত্রে সংসদ আধিকারিকরা বলতে বাধ্য হচ্ছেন স্কুলে স্কুলে পড়ুয়া অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা কম। পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসুর কথায়, ‘উচ্চ মাধ্যমিকে একাদশ–দ্বাদশে কম্পিউটার সায়েন্স ও অ্যাপ্লিকেশনের শিক্ষকদের নিজ নিজ বিষয়ের পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইনটে‍‍লিজেন্স, অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইনটে‍‍লিজেন্স এবং ডেটা সায়েন্সের খাতা দেখতে হচ্ছে। বায়োলজির শিক্ষকরা নিজের বিষয় ছাড়াও পরিবেশবিদ্যা এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের খাতা দেখেন। কোথাও আবার শিক্ষক না থাকায় নিউট্রিশনের খাতা দেখতেও বাধ্য হচ্ছেন।’

    তবে সংসদের এক উপসচিবের দাবি, এটা নতুন কিছুই নয়। ওই নির্দেশিকাতেই জানানো হয়েছে—সরকারি নিয়মে শিক্ষক–শিক্ষিকাদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক। তা ছাড়া সংসদ খাতা দেখা থেকে চারটি কারণে পরীক্ষকদের ‘রেহাই’ও দিচ্ছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে যে সব স্কুল শিক্ষক প্রধান পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে বিএড পড়ছেন (দূরশিক্ষা নয়)। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে ‘উইদাউট পে’-তে ছুটিতে রয়েছে। তবে উপরোক্ত কারণ ব্যতিরেকে অন্য কোনও সমস্যা জানিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করার আর্জি জানানো থেকে শিক্ষক–শিক্ষিকাদের কোনও আবেদনপত্র প্রধান শিক্ষকরা সুপারিশ করবেন না। এমনকী বিদ্যালয়ের প্রধানদের মাধ্যমে আবেদন পাঠালে সংসদ সেই আবেদন গ্রাহ্যও করবে না।

  • Link to this news (এই সময়)