• পাড় ভাঙছে বাগবাজার–কাশীপুর–প্রিন্সেপ ঘাটে! ভাঙন রোধে সুন্দরী গাছে ভরসা পুরসভার
    এই সময় | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: নদী ভাঙন! অনেকে মনে করেন, এই শব্দবন্ধের সঙ্গে কেবল গ্রামীণ এলাকা সমার্থক। কিন্তু যদি বলা হয়, খাস কলকাতায় নদী ভাঙন? অনেকে অবাক হতে পারেন। তবে এটাই ঘটনা।

    নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিভিন্ন তল্লাট। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে পুর আধিকারিকরা জেনেছেন, ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না–নেওয়া হলে স্ট্র্যান্ড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, নদী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীদের একাংশ এ নিয়ে কলকাতা পুরসভাকে বার বার সতর্ক করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, হাওড়ার দিকে নদী খাতে বছরের পর বছর পলি জমে থাকায় হুগলি নদীর গতিপথ পাল্টাতে শুরু করেছে। নদীর স্রোত এসে অনবরত ধাক্কা দিচ্ছে কলকাতার দিকে। খসে পড়ছে পাড়ের মাটি। পুরসভা সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই উত্তর ও মধ্য কলকাতার কাশীপুর, বাগবাজার, স্ট্র্যান্ড রোড, প্রিন্সেপ ঘাটের মতো জায়গা একাধিক বার ভাঙনের মুখে পড়েছে। এই ভাঙন ঠেকাতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বিভিন্ন গাছ, বিশেষ করে সুন্দরী গাছের উপরে কলকাতা পুরসভা ভরসা করছে।

    পুরসভার বক্তব্য, হুগলি নদীর পাড়ে রয়েছে বড়বাজার, পোস্তার মতো ব্যস্ত বাজার। তার সঙ্গে রয়েছে কাশীপুর, কুমোরটুলি, শোভাবাজার, বাগবাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। নিমতলা ঘাট, কাশী মিত্র ঘাটের মতো শ্মশান তো আছেই। এই এলাকায় রয়েছে বহু হেরিটেজ বাড়ি, ধর্মস্থান, বড় বড় গুদামও। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভাঙন নিয়ে এখনই সতর্ক না–হলে অচিরেই প্রিন্সেপ ঘাট থেকে কাশীপুর— বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পুরোনো কলকাতার বহু স্মৃতি তলিয়ে যাবে নদীর গর্ভে। কলকাতার ভাঙন নিয়ে একাধিক বার উদ্বেগ শোনা গিয়েছিল মেয়র ফিরহাদ হাকিমের মুখে। তিনি বলেছিলেন, 'ভাঙন আটকাতে হাওড়ার দিকে জমে থাকা, হুগলি নদীর পলি তোলার ব্যবস্থা যাতে করা হয়, তা নিয়ে সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে পুরসভা আলোচনা করবে।'

    হুগলি নদীর এই ভাঙন আটকাতে নদীর পাড়ে সুন্দরী গাছ রোপণ করতে শুরু করেছে কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগ। সেখানকার এক আধিকারিক জানান, নদী ভাঙন রোধে হুগলি নদীর ধারে ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছের সংখ্যা বাড়াতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই জাতীয় গাছের মধ্যে অবশ্যই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সুন্দরী গাছকে, ম্যানগ্রোভ প্রজাতির অন্যান্য গাছও পোঁতা হবে। সুন্দরীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণ, ওই গাছ ভাঙন রোধে তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।

    পুরসভার উদ্যান বিভাগের একটি সূত্রের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, প্রিন্সেপ ঘাট থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতু পর্যন্ত সুন্দরী, বাইন, কেওড়ার মতো প্রজাতির মোট ২৩০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। নদীর পাড়ে ভেটিভার ঘাসের বন তৈরির উদ্দেশ্যে ৭৫০টি ভেটিভার ঘাসের চারা রোপণ করা হয়েছে। পুরসভার উদ্যান বিভাগের এক অফিসারের ব্যাখ্যা, 'ভাঙন রোধে ভেটিভার ঘাসের বন কার্যত বাঁধের ভূমিকা নেয়।'

    একই ভাবে ভাঙন রোধে নদীর পাড়ে গঙ্গাবর্ধন প্রজাতির ৩৫০টি নারকেল গাছও লাগানো হয়েছে বলে ওই অফিসার জানিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার বলেন, 'ভাঙন রোধে হুগলি নদীর ঘাটে পরিকল্পনা করে সুন্দরী, বাইনের মতো ম্যানগ্রোভ জাতীয় গাছ ধারাবাহিক ভাবে রোপণ করা হচ্ছে।'

  • Link to this news (এই সময়)