• তিন দশকে দেশে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে স্তন ক্যান্সার, সচেতনতা বৃদ্ধিতে সূচনা ‘প্রজেক্ট পিঙ্ক আর্মি’র
    এই সময় | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্তরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সাক্ষী এই প্রথম বার থাকল কলকাতা। শহরের ইনস্টিটিউট অফ ব্রেস্ট ডিজি়জে়স কলকাতা (আইবিডিকে)-র উদ্যোগে শুক্র ও শনিবার আয়োজিত হয় সেন্ট গ্যালেন ইন্টারন্যাশনাল ব্রেস্ট ক্যান্সার কনফারেন্সের ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের চিকিৎসা সম্মেলন। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে ১০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, সর্বভারতীয় স্তরের ২০০–র বেশি বিশিষ্ট চিকিৎসক মিলিয়ে ৫০০–র বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। স্তন ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, গবেষণা, রোগ নির্ণয় এবং সকলের জন্য সমান চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হয় সম্মেলনে।

    বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও ঐতিহ্যবাহী ওই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনা করে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সুপারিশ প্রস্তুত করেছেন, যেগুলো পরবর্তীতে বিশ্ব জুড়ে চিকিৎসার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্মেলনে পেশ করা এক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গত কয়েক দশকে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে যেখানে প্রতি এক লক্ষ মহিলার মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩, সেখানে ২০২৩ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৯ জনে। সম্মেলনে ‘প্রজেক্ট পিঙ্ক আর্মি’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের সূচনা করা হয়। যার লক্ষ্য, সমাজে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং রোগীদের পাশে দাঁড়ানো।

    এর আগে আইবিডিকে-র ‘প্রজেক্ট পিঙ্ক অ্যালার্ট’ কর্মসূচিতে অনলাইনে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছাত্রছাত্রী অংশ নেন। এটা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস–এ স্বীকৃতি পেয়েছে। আইবিডিকে-র কর্তাদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্যান্সার গবেষণা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কলকাতাকে বিশ্ব মানচিত্রে স্তন ক্যান্সারের গবেষণা ও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ। সংস্থার তরফে ব্রেস্ট ক্যান্সার সার্জেন সৌমেন দাস বলেন, ‘কলকাতায় এই সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্যান্সারের গবেষণা ও চিকিৎসা নিয়ে আলোচনায় ভারতীয় চিকিৎসক ও গবেষকদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)