• নিছক বিস্ফোরণ না জমি দখলের ছক? ‘প্রভাবশালী’-র নজরে পড়তেই কি টার্গেট পাইকপাড়ার ক্লাব
    এই সময় | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • শ্যামগোপাল রায়

    দমদম মেট্রো বা স্টেশন থেকে ১০ মিনিটের দূরত্ব। হাতের নাগালে নামী স্কুল ও হাসপাতাল। উত্তর কলকাতার পাইকপাড়া দীর্ঘদিন ধরেই ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের কাছে অন্যতম পছন্দের। কিন্তু সমস্যা একটাই— এই চত্বরে নতুন করে নির্মাণের জন্য ফাঁকা জমি প্রায় নেই বললেই চলে। যা আছে, তা মূলত কিছু পুরোনো বাড়ি অথবা ক্লাব। শনিবার ভোরে গাঙ্গুলিপাড়া লেনের যুবশক্তি ক্লাবে বিস্ফোরণের নেপথ্যে কি তবে সেই জমির দখলদারির লড়াই? ক্লাব সদস্যদের অভিযোগ, এক কাঠা জমির দখল নিতে এবং ক্লাবকে বদনাম করতেই আগাম পরিকল্পনা করে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

    বিস্ফোরণের পরেই সামনে এসেছে জমি সিন্ডিকেটের তত্ত্ব। ক্লাবের সদস্যরা েকউ কেউ বলছেন, ওই এক কাঠা জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ। সেই জমির উপরে নাকি গত কয়েক বছর ধরেই নজর এলাকার এক ‘প্রভাবশালীর’। ক্লাবের সভাপতি শ্রাবণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘এলাকায় ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি আসার পর থেকেই সিন্ডিকেট বা জমি কারবারিদের সক্রিয়তা বেড়েছে। ওই ব্যক্তি পাড়ার একের পর এক পুরোনো বাড়ি কিনে নিচ্ছেন।’ শ্রাবণীর আরও অভিযোগ, ক্লাবের জমিটি হাতিয়ে নেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তা না হওয়ায় এই বিস্ফোরণ। তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘ওই ব্যক্তির নাম আমরা এখনই বলছি না। পুলিশ ঠিক ভাবে তদন্ত করলেই সব সামনে আসবে।’

    পুলিশি তদন্তে সন্তুষ্ট না হলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ চাইবেন বলেও জানিয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, এর আগেও ক্লাবের জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু জমি না ছাড়ায় ক্লাবে চুরিও করানো হয়েছে, ভাঙচুরও হয়েছে। ক্লাবের এক সদস্য সুকান্ত ভৌমিকের কথায়, ‘আমাদের অধিকাংশের বয়স ৫০-এর উপরে। কেউই এখন নিয়মিত ক্লাবে আসি না। সেই সুযোগেই এই জমি হাতানোর ছক কষা হয়েছে।’ ক্লাব সদস্যদের মতে, জায়গা দখল করতে এবং ক্লাবটিকে অসামাজিক কাজের আখড়া হিসেবে দাগিয়ে দিতেই বোমা রাখা হয়েছিল। তাঁদের প্রশ্ন, প্রভাবশালী কারও মদত ছাড়া খাস কলকাতায় জনবসতির মাঝে এ ভাবে বোমা রাখার সাহস কার হবে? তবে, এই ঘটনায় সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি ক্লাবের সদস্যরা।

    রাত পর্যন্ত ক্লাবের তরফে চিৎপুর থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার বরো চেয়ারম্যান তরুণ সাহা বলেন, ‘জমি দখলের কোনও উদ্দেশ্য থাকলে, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। কিন্তু ক্লাবের জমি দখল করার চেষ্টা চলছে, এমন কথা আগে আমাকে কেউ বলেননি।’

  • Link to this news (এই সময়)