• শরীরে থ্যালাসেমিয়া, রক্ত বদলাতে হয় নিয়ম করে, প্রতিনিয়ত বিপদের সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন পাণ্ডুয়ার সঙ্গীতা
    এই সময় | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • সুজয় মুখোপাধ্যায়

    International Women's day 2026 বেঁচে থাকার লড়াই বোধ হয় এমনটাই হয়। হাজারও বাধা পার করে লড়াকু যোদ্ধা লড়ে যায়। হুগলির পাণ্ডুয়ার (Hooghly Pandua) শিখিরা চাঁপ্তা গ্রামপঞ্চায়েতের বেলে গ্রামের বছর ২৬-এর সঙ্গীতা রায়। যখন তাঁর ছ’মাস বয়স, শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে যুঝে বেঁচে থাকার লড়াই শুরু হয়। বয়স যখন ৯ মাস, তখন তাঁর বাবা-মা জানতে পারেন, মেয়ের থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia Fighter)। সেই লড়াই এখনও চলছে। তবে একই সঙ্গে জীবনের মূল স্রোতে হাঁটার লড়াইও জারি আছে তাঁর।

    বাবা শ্যামসুন্দর রায়, মা পূর্ণিমা রায়ের সর্বক্ষণের চেষ্টা, মেয়েকে সব রকম ভাবে সাপোর্ট দিয়ে যাওয়া। সেই জোরেই হাজার বাধা অতিক্রম করে সঙ্গীতা এখন ২৬ বছরের তরুণী। ঘরে বাচ্চাদের পড়ান। নিজের ওষুধ, টুকটাক খরচ নিজের রোজগারেই করেন। তবে রোগের সঙ্গে লড়াই যে এখন থেমে গিয়েছে, তা নয়। এখনও সঙ্গীতার রক্ত পাল্টাতে হয় ছ’মাস পর পর। নিয়মিত ওষুধ লাগে। তবুও দু’চোখ ভরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

    সঙ্গীতার মা পূর্ণিমা জানান, মেয়ের জন্মের পর থেকেই লড়াই শুরু হয়। বাবা শ্যামসুন্দরের একটি ছোট্ট সেলুন। খুব ভালো যে চলত, তেমন নয়। বাধ্য হয়েই গ্রামে গ্রামে সবজি বিক্রি করে কোনও ক্রমে সংসার চালাতেন। এ দিকে ছোটবেলায় প্রতি মাসে রক্ত পাল্টাতে হতো মেয়ের। রোজের ওষুধের খরচ। সব মিলিয়ে হিমশিম অবস্থা ছিল পরিবারের। সঙ্গীতার মা জানান, ছেলের পড়াশোনার খরচ, মেয়ের রোগের চিকিৎসা, কী ভাবে যে দিন কাটত তা ঈশ্বর জানেন।

    এই অসুস্থতার জন্য সঙ্গীতা একটা সময়ে মনমরা হয়ে থাকতেন। বন্ধুরা স্কুলে গেলেও স্কুলে যেতে পারতেন না তিনি। যদিও পরে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক শিক্ষা, হরিদাসপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ, ইটাচুনা বিজয়নারায়ণ মহাবিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৪ সালে এমএ পাশ করেন সঙ্গীতা। ডিএলএড বা বিএড পড়তে চান তিনি। তবে আর্থিক সমস্যার কারণে এখনই তা সম্ভব হচ্ছে না।

    আগে প্রতি মাসে রক্ত পাল্টাতে হলেও এখন একটি অস্ত্রোপচারের পরে তাঁকে ছ’মাস পর পর রক্ত পাল্টাতে হয়। নিজের ওষুধ ও কম্পিউটার কোর্সের খরচ চালানোর জন্য বাড়িতে বাচ্চাদের পড়ান। সঙ্গে এক বছর হলো সরকারি ভাতা পাচ্ছেন হাজার টাকা করে। সঙ্গীতা আরও পড়াশোনা করতে চান। কিন্তু বাবার যে অত টাকা নেই। মা চান, তাঁর মেয়ের একটা পাকাপাকি মাসমাইনের চাকরি হোক। মেয়েরা ঘর-বাহির একসঙ্গে সামলান। সমান দক্ষতায়। সঙ্গীতার মা বিশ্বাস করেন, তাঁর মেয়েও পারবে। হয়ত শরীরে কষ্ট আছে, কিন্তু মেয়ের বুকে যে অদম্য জেদ। সেই জোরেই তো এতটা পথ হেঁটে এল।

  • Link to this news (এই সময়)