• BJP-র বাইক মিছিলে বাধা দিয়ে কাঠগড়ায় পুলিশ, কটাক্ষ তৃণমূলের
    এই সময় | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, ব্যারাকপুর ও বনগাঁ: বিধানসভা ভোটের আগে পালে হাওয়া টানতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিজেপি'র পরিবর্তন যাত্রা। তারই সমর্থনে শনিবার উত্তর ২৪ পরগনায় কাঁচরাপাড়ায় বিজেপি যুব মোর্চার তরফে বাইক র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। বিজেপি'র অভিযোগ, অনুমতি থাকা সত্ত্বেও একাধিক জায়গায় বিজেপির বাইক র‍্যালি আটকানোর চেষ্টা করেছে পুলিশ। তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    বিজেপি'র তরফে জানানো হয়েছে, পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী পরিবর্তন যাত্রার সমর্থনে এ দিন কাঁচপাড়ায় বাইক মিছিল বের করে বিজেপি যুব মোর্চা। অভিযোগ, হালিশহরের কুমোর পাড়ায় বাইক মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। বিজেপি কর্মীরা জোর করে এগনোর চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। তা নিয়ে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা রাস্তার উপরে অবস্থানে বসে পড়েন।

    বিজেপির যুবনেতা বিমলেশ তেওয়ারি বলেন, 'পুলিশ আসলে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ, তাঁরা বেতন পান জনগণের করের টাকায়। কিন্তু তাঁরা তৃণমূলের কথায় চলেন। আগামী ভোটে রাজ্যের মানুষ এর জবাব দেবেন।'

    নৈহাটির গৌরীপুরেও যুব মোর্চার মিছিল আটকানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নৈহাটির নদিয়া জুট মিলের সামনে থেকে বিজেপি মিছিল শুরু হয়। মিছিল গৌরীপুর এলাকায় পৌঁছতেই আটকে দেয় পুলিশ। এখানেও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। তা নিয়ে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। নৈহাটির বিজেপি নেতা রূপক মিত্র বলেন, 'আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে জোর করে মিছিল আটকে দেয়।' খড়দহের বিটি রোডেও যুব মোর্চার বাইক মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। মিছিলটি শুরু হয় খড়দহ বিটি রোড থেকে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ব্যারাকপুর ওয়‍্যারলেস মোড়ে। কিন্তু খড়দহ স্টেশন রোডেই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান। ফলে কিছুক্ষণ বিটি রোডে থমকে যায় যান চলাচল। পরে পুলিশ জোর করে বিজেপি নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়। ব্যারাকপুর পুলিশের দাবি, কোনও আগাম অনুমতি না নিয়েই এ দিন বাইক মিছিল হচ্ছিল। তার জন্যই মিছিল আটকানো হয়েছে।

    তৃণমূল মুখপাত্র সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, 'প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী মিটিং মিছিল করতে গেলে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে যাঁরা অনুমতি না নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশে এই কাজগুলো করছে, প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।'

    এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে পরিবর্তন যাত্রার রথ এসে পৌঁছায় মতুয়া অধ্যুষিত গাইঘাটায়। মতুয়াদের পবিত্র তীর্থভূমি ঠাকুর বাড়িও গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে। এ দিন সকাল ১১টা'য় বনগাঁর মতিগঞ্জ মোড় থেকে শুরু হয় পরিবর্তন যাত্রার রথ। বনগাঁ-বাগদা রোড ধরে সেই রথ পৌঁছায় বাগদার হেলেঞ্চায়। রথে ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, রূপা গাঙ্গুলি, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া, দলের জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ প্রমুখ। রথের সামনে পিছনে ছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

    তৃণমূলের দাবি, বিজেপি'র রথযাত্রায় দলের নেতা-কর্মীরা যোগ দিলেও মতুয়াদের খুব একটা দেখা যায়নি। দেখা মেলেনি মতুয়াদের লাল নিশানও। যদিও গাইঘাটা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। বাগদার মনোহরপুর গ্রামে বিজেপির জনসভাতেও মতুয়াদের উপস্থিতি সে ভাবে চোখে পড়েনি।

    তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, 'মতুয়ারা বুঝতে পেরেছেন, বিজেপি আসলে বাঙালি বিদ্বেষী। মতুয়া বিদ্বেষী। তাই বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন মতুয়ারা।' বনগাঁর বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল বলেন, 'যাঁদের চোখ নেই, তাঁরাই পরিবর্তন যাত্রায় মতুয়াদের দেখতে পাননি। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপির সঙ্গে ছিল, আগামী দিনেও থাকবে।'

  • Link to this news (এই সময়)