এই সময়, শিলিগুড়ি: হোয়াইট অর্কিডের (White Orchid) দেশে বাঘের (Tiger) খোঁজে নামল বন দপ্তর (Forest Department)। অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশন এক্সসারসাইজ কর্মসূচিতে ২ মার্চ থেকে কার্শিয়াং বনর্মীরা বাঘ সমীক্ষায় নেমেছেন। কার্শিয়াং বন দপ্তরের আটটি রেঞ্জে একইসঙ্গে এই সমীক্ষা চলছে। বাঘের আনাগোনার ছবি তোলা থেকে বাঘের আঁছড়ের দাগ, মলমূত্রের নমুনা সংগ্রহ চলছে। প্রায় তিন দশক ধরেই এই জঙ্গলে নানা ধরনের জীবজন্তুর আবাসস্থল হয়ে উঠেছে। চিতাবাঘের (Leopard) আনাগোনা নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কার্শিয়াং বন দপ্তরের ডাউহিলে কালো চিতাবাঘের উপস্থিতি মিলেছে। তবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এখনও কেউ স্বচক্ষে দেখতে না-পেলেও তার উপস্থিতি একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যাচ্ছে না। কেননা, কার্শিয়াং বনাঞ্চল লাগোয়া নেওড়াভ্যালি, এমনকী, সিকিমেও বাঘের উপস্থিতি মিলেছে। ফলে নেওড়া থেকে রয়্যল বেঙ্গল টাইগার কখনও কার্শিয়াংয়েও ‘হাওয়া’ খেতে এসেছিলেন কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, ‘কার্শিয়াং বনাঞ্চল হিসাবে দারুণ। পাহাড় ও তরাই মিলিয়ে বৈচিত্রে ভরা জঙ্গল। সেই কারণেই এখানে বাঘের উপস্থিতি অসম্ভব কিছু নয়। আমাদের কর্মীরা সেটাই খতিয়ে দেখছেন।’
বুনো জন্তুর উপস্থিতি থাকলেও কার্শিয়াংয়ের পরিচিতি অবশ্য ‘হোয়াইট অর্কিড’–এর দেশ বলে। পাহাড়ের অর্কিডের বিশ্বজোড়া খ্যাতি। তার মধ্যে কার্শিয়াংয়ের হোয়াইট অর্কিড নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছে। কার্শিয়াং বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঘের খোঁজে নেমে এখানকার জঙ্গলের গাছপালার বৈচিত্রও খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে। নতুন কোনও প্রজাতির সন্ধান মেলে কি না দেখা হচ্ছে। এই কাজে একটি বিশেষ ধরনের অ্যাপের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ডিএফও (DFO) বলেন, '‘কার্শিয়াংয়ে যে উদ্ভিদ বৈচিত্রে রয়েছে, এ বার তারও একটা তালিকা তৈরির চেষ্টা হবে।’