• চূড়ান্ত তালিকায় হাওড়ায় বহু হিন্দিভাষীর নাম বাতিল, কোন দলের লাভ বেশি, জল্পনা
    এই সময় | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, বালি: রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকা ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ অনেকটাই গুটিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন। সার এর কোপে ইতিমধ্যেই বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তার একটা বড় অংশই মৃত এবং অন্য রাজ্যের ভোটার। কমিশনের তথ্য বলছে, গোটা হাওড়া জেলার মধ্যে সবথেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে হাওড়া শহর এলাকার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে। তার একটা বড় অংশই আবার অবাঙালি হিন্দিভাষী ভোটার। এর ফলে আসন্ন বিধানসভা ভোটে কোন দল বেশি লাভবান হবে, আর কার ক্ষতি হবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই দাবি করছে, তারাই বেশি লাভবান হবে।

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৫-এর ভোটার তালিকায় প্রায় ২ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম ছিল। সার-এর পর খসড়া তালিকায় ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭৩২ জন ভোটারের মধ্যে বাদ (ডিলিটেড) পড়েছে ৩৪১৮ জন। 'বিচারাধীন' রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার। মধ্য হাওড়ায় ২ লক্ষ ২২ হাজার ৬৯৫ জন ভোটারের মধ্যে বাদ চলে গিয়েছে প্রায় এক হাজার এবং বিচারাধীন প্রায় ২৫ হাজার। শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২ লক্ষ ২ হাজার ভোটারের মধ্যে ২২৫৩ জনের নাম বাদ চলে গিয়েছে। প্রায় ১১ হাজার বিচারাধীন রয়েছে। হাওড়া দক্ষিণে মোট আড়াই লক্ষ ভোটারের মধ্যে বিচারাধীনই রয়েছে অন্তত ২৫ হাজার। সরাসরি বাদ পড়েছে পাঁচশোর মতো। বালিতে প্রায় ১১০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বিচারধীন তালিকায় রয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৫ জন।

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাওড়া শহরের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তার একটা বড় অংশই অবাঙালি ভোটার। যাঁদের অনেকেরই অন্য রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। অনেকে আছেন, যাঁরা দু'জায়গাতেই ভোট দিতেন। কিন্তু সার-এর জাঁতাকলে পড়ে তাঁদের নাম বাদ চলে গিয়েছে। এঁদের কারও বাড়ি বিহারে, উত্তরপ্রদেশ কিংবা ঝাড়খণ্ডে।

    বিধানসভা ভোটের মুখে হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে যে প্রশ্নটা ঘুরপাক পাচ্ছে সেটা হলো, এই বিপুল সংখ্যক হিন্দিভাষী ভোটারের নাম বাদ দেওয়ায় রাজনৈতিক ভাবে কারা বেশি লাভবান হবেন? তৃণমূল নেতারা মনে করছেন, হাওড়ার হিন্দিভাষী ভোটাররা বরাবরই বিজেপির দিকে ঝুঁকে থাকেন। ব্যবসায়িক স্বার্থে এই সব মানুষরা শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা করলেও ভোটে তাঁরা বিজেপিকেই সমর্থন করবেন। সেই কারণে উত্তর হাওড়া, বালি, শিবপুর, মধ্য হাওড়ায় বিজেপির কোনও সাংগঠনিক শক্তি না থাকলেও গেরুয়া প্রার্থীরা একটা অংশের মানুষের সমর্থন পেয়ে থাকেন। তাই হিন্দিভাষী ভোটারদের নাম বাতিলে তাঁরাই বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা।

    বিজেপি নেতাদের আবার যুক্তি, এই সব ভোটাররা সাধারণত ভোট দিতে যান না। নয় তো ভোটের দিন তাঁদেরকে বুথে যেতে দেওয়া হয় না। তাঁদের ভোটটা শাসকদলের ক্যাডাররা দিয়ে দেন। কিন্তু এ বার তাদের নামটাই বাতিল হয়ে যাওয়ায় জাল সেটা আর সম্ভব হবে না।

    হাওড়া সদর তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক ভাস্করগোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'যে সমস্ত অবাঙালি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা কেউ তিন পুরুষ, কেউ পাঁচ পুরুষ ধরে এখানে বাস করছেন। এঁদের অনেকেই তৃণমূলকেই ভোট দিতেন। বিজেপিকে সুবিধে পাইয়ে দিতে নির্বাচন কমিশন এঁদের নাম বাদ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও হাওড়ায় আমরাই জিতব।'

    বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তথা উত্তর হাওড়ার বাসিন্দা উমেশ রাই বলেন, '২০ বছর ধরে যাঁরা মারা গিয়েছেন, যাঁরা অন্যত্র চলে গিয়েছেন, তাঁদের নাম উত্তর হাওড়ার ভোটার লিস্টে ছিল। ফলে খসড়া তালিকাতে যে প্রায় ৬০ হাজার নাম বাদ চলে গিয়েছে, তা যথার্থ। এতে বিজেপির কোনও ক্ষতি নেই। টিএমসি'র ছেলেরাই এই ভোটগুলো দিত।'

  • Link to this news (এই সময়)