সুশান্ত বণিক, আসানসোল
সাইকেলের চাকা যত বেশি ঘুরবে, তত বেশি হবে হোম ডেলিভারি (Home delivery)। বাড়বে আয়। জীবনের স্বপ্ন পূরণের জন্য পূজা তাই সকাল–বিকেল হোম ডেলিভারির ব্যাগ কাঁধে ছুটে চলেছেন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। মাঝে মাঝে শরীরে ক্লান্তি নামে। অবসাদও চেপে বসে। কিন্তু থামলে তো চলবে না। আবার সজোরে চাপ দেন সাইকেলের প্যাডেলে।
মা–বাবা ও চার ভাই–বোনের পরিবার। টোটোচালক বাবার সামান্য রোজগার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া দিদির পড়াশোনার খরচ জুগিয়ে বাবার পক্ষে ছোট মেয়ের পড়ার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না দেখে নিজেই এগিয়ে এসেছেন পূজা রজক। আসানসোলের (Asansol) একটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের (Political Science) ছাত্রী তিনি। পড়ার খরচের ব্যবস্থা করতে একটি সংস্থার হোম ডেলিভারির কাজে ঢুকে পড়েছেন। মাস গেলে গড়পড়তা চার হাজার টাকা রোজগার হয়। তা থেকে নিজের পড়ার খরচ চালিয়ে সংসারেও কিছুটা দেওয়া যায়। পূজা জানালেন, এক নিকট আত্মীয়ের পরামর্শে হোম ডেলিভারির কাজটা নিয়েছিলেন।
কাজের শুরুতে তাঁর সবচেয়ে বেশি উপকারে এসেছে রাজ্য সরকারের দেওয়া সবুজসাথীর সাইকেল। উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময়ে পেয়েছিলেন। সেই সাইকেলেই রোজ বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। আসানসোলের মহিশীলার বাসিন্দা পুজা বললেন, ‘দুপুর একটা পর্যন্ত কলেজ। তার পরে বাড়ি ফিরে পড়াশোনা। বিকেল থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত হোম ডেলিভারি। রাতে ফের পড়াশোনা। কখনও সকালে কলেজে ক্লাস না–থাকলে ওই সময়েও ডেলিভারি করি।’ পুজা আরও বললেন, ‘তিন মাস হলো এই কাজে। এত দিন শীতকাল ছিল, পরিশ্রম হলেও কষ্ট তেমন হয়নি। গরমে কষ্ট বাড়বে। কিন্তু থামলে তো স্বপ্ন পূরণ করা যাবে না। তাই শরীরে ক্লান্তি এলেও প্রশ্রয় দিই না।’
কী সেই স্বপ্ন? পুজা জানালেন, তাঁর ইচ্ছে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (এনডিএ) (NDA) পরীক্ষা দিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। এর জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ নিতে হবে। খরচও প্রচুর। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া এখন প্রথম কাজ। তার পরে এনডিএ–র পরীক্ষায় বসবেন। মেয়ে সফল হোক, প্রবল ভাবে চাইছেন বাবা সন্তোষ রজক ও মা গঙ্গা রজক। আত্মবিশ্বাসী পূজা বললেন, ‘মেয়েদের স্বনির্ভর হতেই হবে। নিজের প্রয়োজন মেটাতে অন্যের কাছে হাত পাতার ভাবনা ত্যাগ করতে হবে।’