• দেওয়ালে লেখা স্বপ্ন সত্যি, দিনমজুরের মেয়ে IFS অফিসার, প্রথমবারেই কী ভাবে সফল সৃজা?
    এই সময় | ০৮ মার্চ ২০২৬
  • ছোট থেকেই লেখাপড়ায় ভালো। শিক্ষা দিয়েই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন কেরালার তিরুবনন্তপুরমের সৃজা জেএস (Sreeja J S)-এর। বাবা জয়কুমার দিনমজুর। কাজ হলে দিনে হাজার টাকা মতো আসে। কিন্তু সে কাজ তো প্রতিদিন থাকে না। তবু মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য যতটা সম্ভব, নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন বাবা। শুক্রবার যখন Union Public Service Commission (UPSC) Civil Service Examination (CSE) 2025-এর ফল বেরোল, দেশের মধ্যে তাঁর RANK হয়েছে ৫৭। তাক লাগানো রেজাল্ট। এ বার সাফল্যের উড়ান শুরু হলো সৃজার।

    প্রথম বারের পরীক্ষাতেই ৫৭ Rank, তাও IFS, মোটেই এতটা মসৃণ ছিল না। এই লড়াই যে কতটা কঠিন ছিল, সৃজা নিজেই জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমে। কাজ থাকলে দিনে বাবার হাজার টাকা আয়। কিন্তু সৃজার মা অসুস্থ। মায়ের নিয়মিত ওষুধের খরচ অনেক। তার পরে মেয়ের পড়াশোনা। এমনও হয়েছে ধার করে কোচিংয়ের টাকা দিয়েছেন।

    যদিও সৃজার আত্মীয়, পাড়া প্রতিবেশী সব সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন। মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজের ছাত্রী সৃজা গ্র্যাজুয়েশনের পরে পলিটিক্যাল সায়েন্সে মাস্টার্স করেন। National Eligibility Test (NET) ক্লিয়ার করেন। এক সময়ে IAS অফিসার স্বপ্ন দেখলেও ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস নিয়ে পড়ার সময়ে ধীরে ধীরে মন বদলাতে থাকে তাঁর।

    সৃজা এক সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘আমি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস আর ডিপ্লোমেসি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করার পরে বুঝতে পারি, আমার জীবনের লক্ষ্যটা বদলে যাচ্ছে। IAS অফিসার নয়, আমি ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস জয়েন করতে চাই। আমি আমার বাবা, মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ, কোনও দিন আমার পড়াশোনা নিয়ে তাঁরা না বলেননি।’

    সৃজার ভাই জেএস জ্যোতিষ বিএসসি পড়েন। ফিজিক্স নিয়ে পড়াশোনা করেন চেন্নাইয়ের একটি কলেজে। সৃজার মা-ও মাস্টার্স করেছেন, কিন্তু চাকরি করতে চাননি। চেয়েছিলেন, ছেলে-মেয়েকে মনের মতো করে তৈরি করবেন। এমনও দিন গিয়েছে, সৃজার বাবা জয়কুমার ৪০ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেলে গিয়েছেন-এসেছেন। তাতে কাজে যাওয়ার পয়সা বাঁচবে, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার জন্য তা খরচ করতে পারবেন। স্ত্রীর শ্বাসকষ্ট হয়। তাই সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পরে বাড়ি ফিরে এসে জয়কুমার স্ত্রীকে রান্নার কাজেও সাহায্য করেন।

    খুব সুন্দর এক পারিবারিক বন্ধনে বাঁধা এই সৃজার পরিবার। বাড়ির এই সুন্দর পরিবেশই শত অভাব সত্ত্বেও কোনও দিনও সৃজার লড়াইকে ম্লান হতে দেয়নি। বাবা-মা-ছেলে-মেয়ে কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করেছেন। এখন সেই লড়াইয়ের দাম পাচ্ছেন। বাবা-মায়ের বিশ্বাস, তাঁদের মেয়ে অনেক বড় অফিসার হবেন। দেশ-বিশ্ব চিনবে। সন্তানের হাত ধরেই যন্ত্রণা-দুঃখ ঘুচবে তাঁদেরও।

    এক দিন এই মেয়ে সাদা কাগজে লিখেছিলেন ‘Sreeja JS IFS, AIR 15 UPSC 2025-26’। তা দেওয়ালে পেস্ট করে দিয়েছিলেন। আজ সেই লেখাই সত্যি হলো।

  • Link to this news (এই সময়)