রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠানে অব্যবস্থার অভিযোগ নিয়ে শনিবারই সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দিল্লিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠান থেকেও ফের তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন মোদী। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে পাল্টা জবাব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
দিল্লির অনুষ্ঠানে মোদী বলেন, ‘একজন আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার এই নোংরা রাজনীতি আর ক্ষমতার অহঙ্কার চুরমার হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কোনওদিনও তৃণমূলের (TMC) এই জঘন্য রাজনীতিকে ক্ষমা করবে না।’ পাল্টা ধর্নামঞ্চ থেকে একটি ছবি তুলে ধরেন মমতা। মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা এবং সাংসদ জুন মালিয়া মঞ্চের সামনে উপস্থিত দর্শকের সামনে ছবিটি তুলে ধরেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবানিকে ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন। সেখানে পাশেই বসে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। রাষ্ট্রপতিকে দাঁড়িয়ে কেন সম্মান জানানো হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা।
শনিবার রাতেই রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান আয়োজন সংক্রান্ত কিছু নথি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন মমতা। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল একটি বেসরকারি সংস্থা এবং অনুষ্ঠানের আয়োজনে কোনও ত্রুটি থাকলে সেটা ওই বেসরকারি সংস্থার বলেই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন মঞ্চ থেকেও মমতা বলেন, ‘আমরা চেয়ারের সম্মান করি। বলা হচ্ছে, আমরা রাষ্ট্রপতিকে কোনও সম্মান জানায়নি। কী করে বলছেন? আমাদের মেয়র (শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব) ওখানে গিয়েছিলেন। আমি এখানে ধর্নামঞ্চে আছি। আমি ধর্না ছেড়ে কী ভাবে যাব? ধর্নার আগে আপনার (রাষ্ট্রপতি) প্রোগ্রাম নিয়ে আমি সম্পূর্ণ ভাবে অবগত ছিলাম না। আমি এখানে মানুষের ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছি।… আমি একটা প্রমাণ তুলে ধরলাম। এর থেকে আর বেশি কিছু বলতে হবে?’
উল্লেখ্য, শনিবার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল পরিষদের উদ্যোগে শিলিগুলির বাগডোগরা সংলগ্ন গোঁসাইপুরের একটি মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সভাটি বিধাননগরের মাঠে করার ব্যাপারে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল প্রশাসনের কাছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। শনিবার এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর বক্তব্য নিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শুরু করেছেন বিজেপির সকল স্তরের নেতৃত্ব।