• গ্যাসের দামবৃদ্ধি থেকে SIR-এ নাম বাদ, রাস্তায় নামল নারী ব্রিগেড! মহিলা ভোটব্যাঙ্ক গুছিয়ে নিলেন মমতা?
    এই সময় | ০৯ মার্চ ২০২৬
  • এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। মধ্যবিত্তের হেঁশেলে আগুন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষকে রাজনৈতিক ভাবে কাজে লাগাতে রবিবারই দলের মহিলা বিগ্রেডকে আন্দোলনে সামিল করান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকালেই গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে মঞ্চে থালা-কড়াই বাজিয়ে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, কৃষ্ণা চক্রবর্তীরা। সন্ধ্যায় ধর্না কর্মসূচি রবিবারের মতো শেষ হওয়ার আগে গ্যাসের দামবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তুলোধোনা করলেন মমতা।

    এ দিন মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, ‘গ্যাস নেই। চাইতে গেলে ২১ দিন আগে বুক করতে হবে। আপনার বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার শেষ হলে সমস্যা। তখন কী করবেন? গুল দিয়ে কাঠ এনে রান্না করতে হবে।’ বিজেপি নেতৃত্ব গতকালই দাবি করেছিল, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই রান্নার গ্যাসের দাম স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়েছে। পাল্টা কেন্দ্রের সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘আমেরিকা-রাশিয়া থেকে তেল আনুন, আনা প্রয়োজন। কিন্তু, গ্যাসের-তেলের দাম বাড়লে অন্যান্য জিনিসের দামও বাড়ে। আপনারা মানুষের কথা চিন্তা করেন না।’

    উল্লেখ্য, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা করে বৃদ্ধি পাওয়ায় কলকাতায় রান্নার গাসের দাম বর্তমানে ৯৩৯ টাকা। ১৯ কেজির বাণিজ্য়িক রান্নার গ্য়াসের দাম বাড়ানো হয়েছে সিলিন্ডার প্রতি ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ দাম বেড়ে হল ১ হাজার ৯৯০ টাকা। সাধারণ ও মধ্যবিত্তের উপরে এই দামবৃদ্ধি বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সাধারণ-মধ্যবিত্তের সেই ক্ষোভকেই এ দিন হাতিয়ার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্য দিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের বেশির ভাগ মিছিলে কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা মহিলাদের দেখা যায়। অন্য মহিলারা আসেন না।’ পৃথিবীর খনিজ তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ এখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত। সেই কারণে গোটা বিশ্বেই এর প্রভাব পড়েছে বলে মত তাঁর।

    গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি নারী দিবসে মমতার বক্তব্যে উঠে আসে SIR-এর মাধ্যমে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে মহিলাদের নাম কাটার বিষয়টিও। ধর্নামঞ্চে মমতা বলেন, ‘বিজেপি মহিলাদের ভোট ধরে ধরে কেটেছে। আমার পরিবারে একজন মেয়েরও বিয়ে হয়েছে। তাঁর নামও কেটে দিয়েছে। এঁরা গাধা নাকি। এরা কিছুই জানেন না।’ সুর চড়িয়েছেন মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও।

    তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের মতে, ‘তৃণমূল বা বিজেপি যেই হোক, যে কারোরই নাম বিচারাধীন তালিকায় থাকতে পারে। সকলকে ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিতে হবে। হিন্দু উদ্বাস্তুদের CAA-তে আবেদন করতে হবে। ৯০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ইতিমধ্যে সিএএর শংসাপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। ৯০ শতাংশ সঠিক তথ্য দিয়ে শংসাপত্র পাবেন।’

    গত কয়েকটি নির্বাচনে বার বারই দেখা গিয়েছে, মহিলা ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের দিকে ঝুঁকেছে। নির্বাচনের মোটামুটি মাস দেড়েক আগে বড় হাতিয়ারে শান দেওয়ার কাজটা কি সেরে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা? নাকি মহিলা ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে পারবে বিজেপি? জবাব মিলবে নির্বাচনে।

  • Link to this news (এই সময়)