রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে ছবি দেখিয়ে মোদীকে পাল্টা খোঁচা মমতার, বললেন, 'এঁরা নাকি আমাদের শেখাচ্ছেন'
আজ তক | ০৯ মার্চ ২০২৬
ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে ফের সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গেই রবিবার সরাসরি জবাব দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যোগ দিয়েছিলেন, সেটি রাজ্য সরকারের আয়োজন ছিল না। ফলে সেখানে কোনও সমস্যার দায়ও রাজ্যের উপর চাপানো ঠিক নয়। আর তারপরেই রীতিমতো ছবি দেখিয়ে পাল্টা বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রীকে।
রবিবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, 'অনুষ্ঠানটা আমরা আয়োজন করিনি। সেটা করেছে একটি বেসরকারি সংস্থা। তাদের সেই অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষমতাও ছিল না। ওতে রাজ্য সরকারের কোনও দায়িত্বও ছিল না। আমাদের কিছু জানানোও হয়নি।' তাঁর কথায়, কোনও সংস্থা যদি নিজে অনুষ্ঠান আয়োজন করে এবং সেখানে পর্যাপ্ত লোক জড়ো করতে না পারে, তার দায় রাজ্য সরকারের হতে পারে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি আগেই খতিয়ে দেখা উচিত ছিল আয়োজকদের। তিনি জানান, ওই অনুষ্ঠানস্থলও রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। মমতার কথায়, 'অনুষ্ঠানস্থলটিও এয়ারপোর্ট অথোরিটি অফ ইন্ডিয়ার অধীনে ছিল। আমাদের কিছু না জানালে, রাজ্য সরকার না জানলে কী করে হবে?'
রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মানের অভিযোগও খারিজ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমরা সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে সম্মান করি। শুধু ভোট আসছে বলে যা খুশি বলে বাংলাকে নিশানা করা যায় না।' এরপরেই একটি ছবি দেখান। সেখানে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, 'প্রেসিডেন্ট দাঁড়িয়ে, আর প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন। আমরা তো কোনও সাধারণ মহিলা এলেও উঠে দাঁড়াই। আর এঁরা বলছেন আমরা সম্মান দিই না।'
মমতা আরও জানান, ওই অনুষ্ঠানে কলকাতার মেয়র উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে কেন যাননি, সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, 'আমাদের মেয়র সেখানে গিয়েছিলেন। আমি যাবই বা কীভাবে? আমি তো একটি ধর্নায় ছিলাম। আমি তো সাধারণ মানুষের জন্য লড়ছি।'
প্রসঙ্গত, শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অসম্মান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মন্তব্যে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষও আঘাত পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে বদলে দেবে।
এর আগে শনিবারই ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতিকে দিয়েও রাজনৈতিক বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'রাষ্ট্রপতিকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠিয়েছে বিজেপি।' ইংরেজিতেও তিনি বলেন, 'I am sorry Madam, I have great regards for you. But you are trapped by the BJP policy.'
মমতার দাবি, আন্তর্জাতিক সাঁওতালি সম্মেলনের বিষয়ে আগাম কোনও স্পষ্ট তথ্য রাজ্য সরকারের কাছে ছিল না। তাঁর কথায়, দু’দিন আগে মাত্র তিনি জানতে পারেন রাষ্ট্রপতি আসবেন।
আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম সাঁওতালি ভাষার অলচিকি লিপিকে সরকারি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজে সাঁওতালি ভাষায় পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে এবং West Bengal Civil Service পরীক্ষাতেও সাঁওতালি ভাষায় পরীক্ষা দেওয়া যায়।
উত্তরবঙ্গে আদিবাসী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেছিলেন, অনুষ্ঠানে বহু ফাঁকা চেয়ার দেখে মনে হচ্ছে হয়তো মানুষকে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। বিধানসভা ভোটের আবহে এই ইস্যু আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।