অনুপ্রবেশকারী ও দুর্নীতি ইস্যুর সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে রাষ্ট্রপতিকে অবমাননার অভিযোগের বিতর্ক। রবিবার ছুটির দিনে নতুন উদ্যমে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বিজেপির। দুই ২৪ পরগনা থেকে বর্ধমান, মালদা-সহ একাধিক জেলায় পরিবর্তন যাত্রার ষষ্ঠ দিনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
উত্তর ২৪ পরগনার ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় হাজির হন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। রাজ্যে অনুপ্রেবশ সমস্যা থেকে কাটমানি ইস্যু— একাধিক বিষয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন অনুরাগ। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যে রাষ্ট্রপতির বিরোধিতা, অনুপ্রবেশকারীদের স্বাগত জানানো হয়। অনুপ্রবেশকারীদের ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট করা হবেই।’
বাংলার অস্মিতা ও সংস্কৃতি রক্ষার কথা বলে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সুর ধরেই অনুরাগ বলেন, ‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন বাংলা অস্মিতা, বাংলা সংস্কৃতি এবং বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ বাংলায় চলেছে। কংগ্রেস থেকে শুরু করে বামপন্থী দল এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস—সবাই পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে, কারণ এই অনুপ্রবেশকারীরাই তাদের ভোটব্যাঙ্ক।’
বর্ধমানের ‘পরিবর্তন যাত্রা’র কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে সুকান্ত বলেন, ‘এটা সমগ্র আদিবাসী সমাজের অপমান। রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র আদিবাসী বলেই এটা করা করা হয়েছে। আদিবাসী সমাজকে, আদিবাসী মহিলাকে অপমান করার জন্যই মুখ্যমন্ত্রী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস সবাই মিলে এ ধরনের কথা বলছেন। মুর্মুর জায়গায় মুখোপাধ্যায়, বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য কিছু থাকলে তৃণমূল কংগ্রেস এটা করত না। আদিবাসীদের একটাই দোষ তারা বিজেপিকে ভোট দেয়।’
অন্য দিকে, নদিয়া জেলার তেহট্ট মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় পরিবর্তন যাত্রায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের। কাঠালিয়া বাজারে এই সভাকে কেন্দ্র করে একদিন আগে থেকেই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল । সকাল ১১ টার দিকে একে একে মঞ্চে উপস্থিত হন নদিয়া উত্তর জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস, সাংসদ জগন্নাথ সরকার, বিজেপি নেত্রী পামেলা গোস্বামী-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। তবে দিলীপ ঘোষ উপস্থিত না হওয়ায় কিছুটা হতাশ হন কর্মী, সমর্থকেরা।