• এক ছবিতেই প্রতিবাদ! রাষ্ট্রপতি বিতর্কে তৃণমূলের নয়া অস্ত্র, কী এর ইতিহাস?
    এই সময় | ০৯ মার্চ ২০২৬
  • একটি ছবি! যেখানে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কারের মানপত্র তুলে দিচ্ছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানির হাতে। তাঁর পাশের চেয়ার বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আদবানি ও মোদিকে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেলেও রাষ্ট্রপতিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে এই ছবিতে।

    যে সময়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অসম্মানের অভিযোগ তুলে যখন SIR নিয়ে ক্ষোভের আগুনের আঁচ কমাতে তৎপর বিজেপি, ঠিক সেই সময়েই ছবিটি সামনে আনল তৃণমূল। ছবিটি দেখানো হলো মথুরাপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতে। তৃণমূলের সাংসদ জুন মালিয়া ও রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা মিলে সেই ছবি তুলে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চেও। পুরোনো ফাইল ঘেঁটে যে ছবি বের করে আনল তৃণমূল, সেই ছবি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে দুই বছর আগেও।

    ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ দিল্লিতে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ও দেশের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানির বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বয়সজনিত ও অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কার নিতে যেতে পারেননি লালকৃষ্ণ আদবানি। সেই কারণে তাঁর বাড়িতে এসেই সেই পুরস্কার হাতে তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রে রে করে ওঠে দেশের বিরোধী দলগুলি।

    সেই সময়ে কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি জয়রাম রমেশ বলেছিলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রপতির প্রতি চরম অসম্মান। প্রধানমন্ত্রীর অবশ্যই দাঁড়িয়ে থাকা উচিত ছিল।’ আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদী রাষ্ট্রপতির সম্মানে দাঁড়াননি এবং ইটা প্রমাণিত যে বিজেপির সংবিধানের উপর কোনও বিশ্বাস নেই।’কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেৎ বলেন, ‘এটি কেবল প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতির অপমানই নয়, এটি সাধারণ শিষ্টাচারেরও পরিপন্থী। এটি কি আদিবাসী, বঞ্চিত এবং শোষিত সমাজের প্রতি সম্মান? লজ্জার!’

    যদিও এর পাল্টা যুক্তিও দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। একটি সংবাদমাধ্যমে অশোক মালিক (২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের প্রেস সচিব) বলেন, ‘প্রোটোকল অনুসারে রাষ্ট্রপতি ভবনে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রপতি উভয়ই দাঁড়িয়ে থাকেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যরা বসে থাকেন এবং তাঁদের দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না।’

    শিলিগুড়িতে সাঁওতাল ফেডারেশনের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির অবমাননার অভিযোগ তুলে ধরে নির্বাচনের আগে তৃণমূলককে কোণঠাসা করতে নেমে পড়েছেন আপাদমস্তক বিজেপি নেতৃত্ব। SIR নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মাঝেই নতুন ইস্যু গেরুয়া শিবিরকে কিছুটা চনমনে করে তুলেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। এর মাঝেই ‘পুরোনো চাল ভাতে’ বাড়ানোর সুযোগকে হাতছাড়া না করতেই ‘ছবি-রাজনীতির শরণাপন্ন তৃণমূল? রাজ্যের শাসকদলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘রাষ্ট্রপতি এবং আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিকে কী ভাবে অপমান করা হয়েছে, তা এই ছবিতেই স্পষ্ট। রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে রাজনীতিতে বিজেপিই শুরু করেছিল। এর জবাব নির্বাচনে দেবে সাধারণ মানুষ।’

    অন্য দিকে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘কোনও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এটা করা যায়? দ্রৌপদী মুর্মুর জায়গায় প্রণব মুখোপাধ্যায় থাকলে এটা করতে পারতেন? এটা সমগ্র আদিবাসী সমাজের অপমান। শুধুমাত্র আদিবাসী বলেই এটা করা করা হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)