শ্যামগোপাল রায়
কলকাতায় আপাতত ডেঙ্গির (Dengue) প্রকোপ কিছুটা কম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫–এর শুরুর দু’মাসে যেখানে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪২, সেখানে ২০২৬-এর ১ মার্চ পর্যন্ত শহরে ডেঙ্গির রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে ২৪ জনের। মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতায় সংখ্যাটা বেশি। তবে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ‘পিক সিজ়ন’ আসার আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipality)। শহরজুড়ে ৪৫টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে কড়া নজরদারির ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়েছে।
পুরসভা সূত্রের খবর, গত বছর যে সমস্ত ওয়ার্ডে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ ছাড়িয়েছিল, সেই এলাকাগুলোকেই হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডগুলির স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত একটি ‘মাইক্রো-প্ল্যান’ তৈরি করতে। লক্ষ্য একটাই — মশার বংশবৃদ্ধির উৎস গোড়াতেই নষ্ট করা। এই পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে শহরের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি অফিস, দীর্ঘদিনের বন্ধ বাড়ি এবং পরিত্যক্ত ফাঁকা জমিগুলোয় নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এই জায়গাগুলোই মশার প্রধান ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বার গুরুত্ব পাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। জমা জলের খোঁজে বহুতলের ছাদ বা ফাঁকা জমিতে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার কাজেও জোর দেওয়া হচ্ছে। নভেম্বর পর্যন্ত টানা সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জোর দেওয়া হচ্ছে দ্রুত টেস্টের উপরেও।
পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাসের কথায়, ‘শহরে এখন থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তার উপরে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি। এই আবহাওয়া ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশার ডিম পাড়ার জন্য আদর্শ। ফলে ছোট পরিসরেও যাতে জল না জমে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এলাকায় একজন আক্রান্ত হলেও তাঁর আশপাশের বাসিন্দাদের রক্ত পরীক্ষা করানোয় জোর দেওয়া উচিত। পুর আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রচার–প্রতিরোধের সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতাও সমান ভাবে জরুরি।
ডেঙ্গি–চিত্র
২০২৪ ৬৬
২০২৫ ৪২
২০২৬ ২৪ (১ জানুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত)
— ২৫ বেশি আক্রান্ত ওয়ার্ডই হটস্পট
— আক্রান্ত বেশি যেখানে: পিকনিক গার্ডেন, তপসিয়া, বালিগঞ্জ, লেক গার্ডেন্স, যোধপুর পার্ক, ভবানীপুরের একাংশ, খিদিরপুর
তথ্যসূত্রঃ স্বাস্থ্য ভবন