এই সময়: রাজ্যজুড়ে চলছে বিজেপির (BJP) ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’। সেখানে ভিড় করছেন বিজেপি নেতা–কর্মীরা। যাত্রা থেকে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই বার্তা কি সাধারণ মানুষের মন ছুঁতে পারছে? সেটাই ঠাওর করতে চাইছে দলের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
সে কারণে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মাঝপথে কিছু নিয়ম জুড়ে দিয়েছে দিল্লি। সূত্রের খবর, জেলাস্তরের বিজেপি নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও রাস্তা দিয়ে যাত্রা চলাকালীন, পথচলতি সাধারণ মানুষের সঙ্গে গল্প জুড়তে হবে বিজেপি কর্মীদের। অত্যন্ত মেঠো ভাষায় তাদের বোঝাতে হবে বাংলার দুরবস্থার কথা। বিজেপির এক রাজ্য নেতার কথায়, ‘সাধারণত, রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলি থেকে সাধারণ মানুষ দূরত্ব বজায় রাখে। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে, পরিবর্তন যাত্রার সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করতে। আম–আদমির জড়তা কাটাতে যাত্রা চলাকালীন আশপাশের বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার জল চাইতেও বলা হয়েছে কর্মীদের।’
যদিও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (Tmc) মনে করছে, বিজেপির এই যাত্রার কোনও প্রভাব বাংলার জনমানসে পড়ছে না বা পড়বেও না। রবিবার মথুরাপুরের সভা থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘বিজেপির এই কর্মসূচিতে ভিড় হচ্ছে না। এর থেকে চায়ের দোকানের আড্ডায় বেশি ভিড় হয়।’
আগামী ১৪ মার্চ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা দিয়ে শেষ হবে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মনোভাব থেকে স্পষ্ট, এ ক’দিন বাংলার বিজেপি নেতাদের টার্গেট হবে যাত্রাকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়ানো। রবিবার ব্যারকপুরে এই কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অনুরাগ ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের ঋণ ৮ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ হচ্ছে না। রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বিজেপি কথা দিয়েছে, ক্ষমতায় এলে দুই মাসের মধ্যে সব শূন্যপদে নিয়োগ ও সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও সাংবিধানিক পদকে সম্মান করেন না। এই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এলেও তাঁকে অসম্মান করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেওয়া হয় না। এ সবের জবাব পশ্চিমবঙ্গের জনগণ এ বারের ভোটে দেবে।’
উত্তরবঙ্গের লাটাগুড়িতে হাজির ছিলেন বিহারের উপ–মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি (Bihar Deputy Chief Minister Samrat Chaudhary)। তাঁর অভিযোগ, ‘উত্তরবঙ্গের মানুষ তাঁদের প্রাপ্য টাকা পান না। অন্তর্বতী বাজেটে রাজ্য সরকার মাত্র ৯০০ কোটি টাকা উত্তরবঙ্গের জন্য দিয়েছেন। অথচ মাদ্রাসায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে সবার আগে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে।’ বিজেপির ক্ষমতায় এলে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
পূর্ব বর্ধমানের কালনার পরিবর্তন যাত্রা থেকে বিজেপি কর্মীদের চাঙ্গা করতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরপ্রদেশের মতো বুলডোজ়ার নীতি চালু হবে। পুলিশ শুধু অপরাধীকে গ্রেপ্তারই করবে না, তার বাড়িও বুলডোজ়ার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’