• অমিত শাহকে কড়া জবাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
    এই সময় | ০৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: স্থান একই। বদলে গেল কাল, পাত্র। বক্তব্যও। ঠিক ছ’দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Home Minister) অমিত শাহকে (Amit Shah) কড়া জবাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। গত ২ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের যে মাঠ থেকে শাহ দাবি করেছিলেন, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে বাংলায় অভিষেকের শাসন কায়েম হবে, রবিবার দুপুরে সেই মাঠে দাঁড়িয়েই অভিষেক প্রশ্ন তুললেন, ‘কোন যোগ্যতায় অমিত শাহের ছেলে আইসিসি–র (ICC) প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেছেন?’ সেই সঙ্গে নিজের প্রশাসনিক পরিধি বিশ্লেষণ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের খোঁচা, ‘আমি জানি না, অমিতবাবু বাং‍লার রাজনীতি ফলো করেন কি না!’

    বিধানসভা ভোটের মুখে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপি। সেই যাত্রার উদ্বোধন করতে গত সোমবার মথুরাপুর লোকসভা এলাকার গোপীনাথপুর মাঠে এসেছিলেন অমিত শাহ। সেখানে প্রকাশ্য সভা থেকে অভিষেককে নিশানা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছি‍লেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে অভিষেককে বসাতে চান মমতা। শাহের তাৎপর্যপূর্ণ সতর্কবার্তা ছিল, ‘এ বার তৃণমূলকে ভোট দিলে বাংলায় অভিষেকের শাসন হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন আর থাকবে না।’ বাংলার ভোটারদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন, ‘আপনারা কি অভিষেকের শাসন চান?’ সে দিনই তৃণমূলের তরফে বার্তা দেওয়া হয়, আগামী রবিবার গোপীনাথপুরের ওই মাঠে পাল্টা সভা করে শাহের আক্রমণের জবাব দেবেন অভিষেক।

    বাং‍লার প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কোনও অভিপ্রায় যে তাঁর নেই, রবিবার পাল্টা সভা থেকে সেটাই স্পষ্ট ভাবে শাহকে বুঝিয়ে দেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘অমিত শাহ এসে বলেছেন, দিদি আবার জিতে এলে ভাইপো রাজ্য চালাবেন।’ শাহের এই দাবি ভিত্তিহীন প্রমাণ করতে অভিষেকের সংযোজন, ‘আমি ২০১৪–য় সাংসদ হয়েছি। এখন ২০২৬। এই ১২ বছরে আমি নিজের লোকসভা কেন্দ্রের বাইরে কোনও সরকারি অনুষ্ঠা‍নে যাইনি।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কোনও শিল্প–সম্মেলনে অংশ নিইনি। আজ পর্যন্ত আমার লোকসভা কেন্দ্রের বাইরে কোনও খেলায়–মেলায় যাইনি। চলচ্চিত্র উৎসবে যাইনি। কার্নিভালে যাইনি। আমি জানি একজন জনপ্রতিনিধি হতে গেলে অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে।’

    অর্থাৎ, দলীয় সংগঠনের কাজে রাজ্য চষে ফেললেও নিজের লোকসভা কেন্দ্রের বাইরে কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যে তিনি সামিল হন না, এ দিন মথুরাপুরের সভা সে বার্তাই দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ‘আমি বারবার মানুষের সামনে অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছি। একবার ৭১ হাজার, একবার ৩ লক্ষ ২২ হাজার আর একবার ৭ লক্ষ ১১ হাজার ভোটে জিতেছি।’ এর পরেই তিনি শাহের কাছে তাঁর ছেলে জয় শাহের ‘অগ্নিপরীক্ষার সার্টিফিকেট’ দাবি করেন — ‘আমি জানতে চাই, অমিত শাহ আপনার ছেলে কোন অগ্নিপরীক্ষায় পাশ করে আইসিসি–র প্রেসিডেন্ট হয়েছেন? আমার লড়াই কিন্তু বাংলার মানুষ দেখেছেন। দেশের প্রধা‍নমন্ত্রী এখানে সভা করতে এসে হুমকি দিয়েছিলেন, ভাইপোকে জেলের ভাত খাওয়াব। পার্টি অফিস বন্ধ করে দেবো। আমতলায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে জোড়াফুলের পতাকা আজও পতপত করে উড়ছে। বিজেপির ঝান্ডা ধরার লোক দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নেই।’

    তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এ দিন মথুরাপুরে অভিষেকের সভায় যা ভিড় হয়েছে, তার সিকি ভাগও হয়নি গত সোমবার অমিত শাহের সভায়। অভিষেক নিজেও ভিড়ের তুলনা টেনে সভায় বলেন, ‘এত কম দিনের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেস একই মাঠে মিটিং করেছে। ট্রেলারটা দেখালাম। সিনেমা মে মাসে যে দিন ভোটের রেজ়াল্ট বেরোবে, সে দিন দেখবেন।’ অভিষেকের দাবির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘উনি বাংলার মানুষকে বোকা বানাতে চাইছেন। রাজ্যের প্রশাসনকে কন্ট্রোল করতে জেলায় জেলায় ঘুরতে হয় না। পুলিশের ডিজি বা রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কন্ট্রোল করলেই হয়।’

  • Link to this news (এই সময়)