অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি
• আবশ্যক শিক্ষাগত যোগ্যতা- ন্যূনতম স্নাতক
• সর্বোচ্চ বয়স সীমা- ৪০
• শ্রেণি বিন্যাস- পুরুষ, মহিলা, সবাই স্বাগত
• যোগ্যতা- ১) বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দিতেও ভালো দখল থাকতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে
• কাজের পরিধি- দিন রাত
• কাজের স্থান- ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’
• কাজের উপকরণ- অ্যান্ড্রয়েড বা আই ফোন
• লক্ষ্যমাত্রা- দিনে অন্তত ৩০টি নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ৷ সঙ্গে রিপোস্ট, লাইক, কমেন্ট৷
• বিশেষ লক্ষ্যমাত্রা- তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে সারাদিন সক্রিয় থাকতে হবে সোশাল মিডিয়ায়৷ ঝড় তুলতে হবে তৃণমূলের ভুল ত্রুটিকে হাতিয়ার করে৷
• মাসিক সম্মান দক্ষিণা- ১২,০০০ টাকা
• চুক্তির মেয়াদ- আপাতত তিন মাস
উপরে উল্লিখিত কয়েকটি লাইন পড়ার পরেই আপনাদের মনে হতে পারে কোনও চাকরির বিজ্ঞাপন দেখছেন৷ বিষয়টি খানিকটা তেমন মনে হলেও প্রথাগত চাকরির (Job Interview) বিজ্ঞাপনের সঙ্গে উপরের বিবরণের একটা মৌলিক ফারাক আছে৷ সূত্রের দাবি, উপরের ‘রূপক’ বিজ্ঞাপনে উল্লেখ থাকা যাবতীয় শর্ত পূরণ করেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি (BJP) তৈরি করেছে তাদের নিজস্ব ‘ট্রোল বাহিনী’৷ ভোটের ময়দানে (Bengal Election) তৃণমূল স্তরে বাংলার শাসক দলের সঙ্গে লড়াই চালানোর পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে অবিরাম তীব্র লড়াইকে মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে এই ট্রোল বাহিনী৷
বাংলার ২৩টি জেলার প্রতিটিতে এমন ২৫ জন করে ব্যক্তি বিজেপির ট্রোল বাহিনীর সদস্য হিসেবে কাজ করছেন গত একমাস ধরে, এমনই দাবি বিজেপি সূত্রের৷ ইতিমধ্যেই তাঁরা তাঁদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনও পেয়ে গিয়েছেন৷ বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট জারি হওয়ার পরে বিজেপির এই ট্রোল বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও দলীয় সূত্রে দাবি জানানো হয়েছে৷
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বাংলার যুব সাথী প্রকল্পে যে ভাবে রাজ্যের বেকারদের হাতে মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা তুলে দেওয়ার ঘোষণাকে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে তার যোগ্য বিকল্প খুঁজতে গিয়েই এই ট্রোল বাহিনীকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি৷
সূত্রের দাবি, গেরুয়া শিবিরের এই পরিকল্পনার মূলে আছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ এই ক্ষেত্রে রাজ্যের সব জেলায় শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের একটা ক্ষুদ্র অংশকে মাসিক ১২,০০০ টাকা বেতনে কাজে লাগানোর ফলে ভোটের আগে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই বিশ্বাস বিজেপি নেতৃত্বের৷ এর পাশাপাশি থাকছে ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’-র ভাবনাও৷ যে সব বেকার রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের শাসনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ তাঁদের সেই রাগ ও ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক মাধ্যমের অঘোষিত ব্যাটল ফিল্ডে বাড়তি মাইলেজ পাওয়াও বিজেপির থিংক ট্যাঙ্কের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ৷
ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল — আপাতত তিন মাসের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছে ট্রোল বাহিনীর সদস্যদের, এমনই দাবি বিজেপি সূত্রের৷ এই চুক্তির তিন মাস শেষ হবে এপ্রিলে৷ মে মাসের প্রথম দিকেই মিটে যেতে পারে ভোট পর্ব৷ এর পরে আপনারা কী করবেন ? প্রশ্নের উত্তরে ট্রোল বাহিনীর সদস্য এক কর্মীর ব্যাখ্যা, ‘পারফর্ম্যান্স ভালো হলে আমাদের চুক্তি রিনিউ করা হবে জানানো হয়েছে৷ যদি তা না হয়, তা হলেও তিন মাসে ৩৬,০০০ টাকা বেতন খারাপ কী? বাড়িতে বসেই তো করতে পারছি এই কাজ৷ অতিরিক্ত খরচও নেই বললেই চলে৷ এই অবস্থায় হাতের লক্ষ্মীকে কেউ পায়ে ঠেলে?’