• দোহা, আবু ধাবির ফ্লাইট এখনও বন্ধ, দুবাই থেকে ফিরে গোটা পরিস্থিতি জানালেন খিদিরপুরের রাজেশ
    এই সময় | ০৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: রাজেশ সাউ কলকাতার খিদিরপুরের বাসিন্দা। দুবাইয়ে একটি সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। দুবাই থেকে শনিবার মাঝ রাতে এমিরেটসের ফ্লাইটে কলকাতায় নেমেছেন। আসার কথা ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। জানিয়েছেন, শনিবার সকালে দুবাই বিমানবন্দরের (Dubai International Airport) কাছে পৌঁছেও মেট্রো স্টেশনের সামনে ঠায় দেড় ঘণ্টা বসেছিলেন। কারণ, সকালেই দুবাই বিমানবন্দরের ভিতরে বিস্ফোরণের খবর ছড়ায়। ধোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়। অনেকেই জানান ড্রোন হামলা (Drone Attack) হয়েছে।

    নিজের কনসালটেন্সি রয়েছে নাকতলার আশিস পন্ডিতের। তিনিও ২৭৮ জন যাত্রীর সঙ্গে ফিরেছেন ওই ফ্লাইটে। রাজেশের মতো তিনিও বিমানবন্দরে পৌঁছেও ভিতরে ঢুকতে পারেননি। জানিয়েছেন, স্থানীয় ট্যাক্সিচালক পরে তাঁদের পিছনের দিকের গেট দিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন। তখনই আসার পথে সেই চালক তাঁকে দেখান, ড্রোন উড়ে এলেও তাকে খতম করে দেয় ডিফেন্স সিস্টেম। সেই ধ্বংসাবশেষ গিয়ে পড়ে বিমানবন্দরের চৌহদ্দির ভিতরে। তাতেই আতঙ্ক ছড়ায় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফ্লাইট মুভমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    সল্টলেকের বাসিন্দা, এখন দুবাইয়ে রয়েছেন অরিজিৎ ঘোষ। এ দিন হোয়াটসঅ্যাপ কলে বলেন, ‘দুবাইয়ের পরিবেশ কিন্তু অনেকটাই স্বাভাবিক। আমাদের অফিস চলছে। রাস্তাঘাটে নর্মাল গাড়ি চলছে। শুধু বাচ্চাদের স্কুলে ছুটি দিয়ে দিয়েছে।’ তাঁর দাবি, ড্রোন হামলা হলেও শহর থেকে অনেকটাই বাইরে হচ্ছে। শুধুমাত্র শনিবার সকালে একটা ড্রোনের অংশ বিশেষ এসে দুবাই বিমানবন্দরে পড়ছিল। এ ছাড়া শনিবার রাতে জেএলটি এলাকার মেরিনা টাওয়ারে একটা অ্যাটাক হয়েছে। অরিজিতের যুক্তি, সেফ না থাকলে দুবাই থেকে প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট চালানো হতো না।

    শনিবার রাতের পরে রবিবার সকালেও ২৮৮ জন যাত্রী নিয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইট কলকাতায় নেমেছে। তবে, এখনও কলকাতা থেকে কাতার এয়ারওয়েজ়, ইতিহাদ এবং এয়ার আরবিয়ার ফ্লাইট চালু হয়নি। রবিবার সন্ধ্যায় ‘ফ্লাইটরেডার – টোয়েন্টিফোর’ এর উপগ্রহ চিত্র দেখিয়েছে, শুধু দুবাই থেকেই ফ্লাইট অপারেশন চলছে। শারজা থেকে হাতে–গোনা কয়েকটি ফ্লাইট অপারেট করছে। বাকি পশ্চিম এশিয়ার আকাশ কার্যত ফাঁকা।

    ফোনে রাজেশ জানিয়েছেন, ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন ২৮ ফেব্রুয়ারি। সে দিন সময় মতো দুবাই বিমানবন্দরে পৌঁছে বিমানের ভিতরে উঠেও বসেছিলেন। পাঁচ মিনিট বাকি ছিল ফ্লাইট ছাড়তে। তখনই যুদ্ধ লেগে যায়। বাড়ি ফেরা হয়নি রাজেশের। তবে থেকে এমিরেটসের অতিথি হয়ে দুবাইয়ের একটি হোটেলে ছিলেন। বহু ই–মেল আর ফোন পেরিয়ে শুক্রবার জানতে পারেন, শনিবার সকালের ফ্লাইটে ঠাঁই পেয়েছেন। উল্লেখ্য, আট দিন পরে সেটাই ছিল দুবাই থেকে এমিরেটসের কলকাতার প্রথম ফ্লাইট। শনিবার দুপুর একটার ফ্লাইট ধরতে বিমানবন্দরের কাছেও পৌঁছে যান। রাজেশ বলেন, ‘আচমকা মেসেজ আসে বিমানবন্দর বন্ধ। সব ফ্লাইট বাতিল। আমি মেট্রো স্টেশনের সামনে প্রায় দেড় ঘণ্টা বসেছিলাম।’

    আশিসের কথায়, ‘আমার সঙ্গে সহকর্মী ছিলেন। আমাদের ট্যাক্সি বিমানবন্দরের সামনেই দাঁড়াতে দেয়নি। দু’জনে বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলের লবিতে গিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের মতো অনেকে অপেক্ষা করছিলেন।’ এই যুদ্ধের আবহে দুবাইয়ের জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে বলেও খবর আসছে। অরিজিতের কথায়, ‘মুরগির মাংস ও আনাজের দাম গত দু’দিনে সামান্য বাড়লেও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম একই রয়েছে।’ এদিকে রবিবার এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া যাত্রীদের ফেরাতে ১০ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে তারা ৭৮টি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালাবে। বেশিরভাগই নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, প্যারিস, আমস্টারডাম, জ়ুরিখে।রবিবার এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়া যাত্রীদের ফেরাতে ১০ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে তারা ৭৮টি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালাবে। বেশিরভাগই নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, প্যারিস, আমস্টারডাম, জ়ুরিখে।

  • Link to this news (এই সময়)