এই সময়: পাঁচতলা থেকে নীচে পড়ে গিয়েছিলেন তরুণ। আর পড়েছিলেন একেবারে গেটের উপর। হাতে সেই গেটের লোহার গ্রিলের তীরের মতো ধারালো অংশ বিঁধে গিয়ে এফোড়–ওফোঁড় হয়ে যায়। অত্যন্ত জটিল সেই অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল ওই তরুণকে। সামান্য ভুলেই হতে পারত মারাত্মক রক্তক্ষরণ, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি, এমনকী প্রাণহানিও। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হয়নি। চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিশিয়ান ও নার্সদের মিলিত তৎপরতায় সফল অস্ত্রোপচার করে ওই তরুণের প্রাণ বাঁচাল মুকুন্দপুরের বেসরকারি হাসপাতাল (Private Hospital in Mukundapur)।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ বছরের ওই তরুণ পাঁচতলা থেকে পড়ে যাওয়ার সময় বাড়ির গেটের লোহার গ্রিলের ধারালো অংশ তাঁর হাতের কবজি ও তালুতে ঢুকে যায়। সেই অবস্থাতেই তাঁকে আরএন টেগোর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। গ্রিলটি সরানোর ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাতেই ব্যাপক রক্তক্ষরণ বা স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। গুরুতর পরিস্থিতির জটিলতা বুঝে শুরু হয় বহু–বিভাগীয় পরিকল্পনা বা মাল্টি–ডিসিপ্লিনারি স্ট্র্যাটেজি। জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের পাশাপাশি ওই তরুণকে বিপন্মুক্ত করার কাজে যোগ দেন ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেনটেন্যান্স টিমের সদস্যরাও।
কী ভাবে লোহার ফ্রেম কাটা হলে অতিরিক্ত তাপ বা স্ফুলিঙ্গ তৈরি হবে না এবং আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি কমানো যাবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করা হয়। জরুরি বিভাগেই প্রস্তুত রাখা হয় বিশেষ ইলেকট্রিক করাত, ঠান্ডা স্যালাইন এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। সতর্কতার সঙ্গে নিপুণ দক্ষতায় প্রথমে লোহার বড় ফ্রেমটি আলাদা করা হয়। এর পরে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে জটিল অস্ত্রোপচার করেন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ সূর্য উদয় সিং। অর্থোপেডিক ও ভাস্কুলার সার্জারি দলের যৌথ প্রচেষ্টায় ধাপে ধাপে শরীরের ভেতরে ঢুকে থাকা ধাতব অংশ বের করা হয়। চিকিৎসকদের কথায়, ‘প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভেবেচিন্তে এগোতে হয়েছে। কারণ সামান্য ভুলেও পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারত।’
তা অবশ্য হয়নি। এই জটিল ট্রমা কেসে বহু–বিভাগীয় সমন্বয় রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় হাসপাতালের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত টিমও। হাসপাতালের ডিরেক্টর ও ক্লাস্টার হেড (কলকাতা) অভিজিৎ সিপি এবং গ্রুপ চিফ অপারেটিং অফিসার আর ভেঙ্কটেশ জানান, এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা দক্ষতার পাশাপাশি দ্রুত সিদ্ধান্ত, প্রস্তুতি এবং একাধিক বিভাগের সক্রিয় সমন্বনয়ই রোগীকে বাঁচাতে বড় ভূমিকা নেয়। হাসপাতালের ‘ম্যানেজারস অন ডিউটি’ দলও জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি ও অপারেশন থিয়েটারের প্রস্তুতি নিশ্চিত করে। মূল অস্ত্রোপচারের পরেও একাধিক অনুসারী অস্ত্রোপচার হয় তরুণের। এখন তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন। তাঁর পরবর্তী চিকিৎসা ও রিহ্যাব প্ল্যানও করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। আপাতত ওই তরুণ ছুটির অপেক্ষায় রয়েছেন।