• ‘পথশ্রী-৪’ প্রকল্পে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আরও নতুন রাস্তা
    এই সময় | ০৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, খড়্গপুর: এ বার ভোটে পশ্চিম মেদিনীপুর (West Midnapore) জেলায় রাস্তা একটি বড় ইস্যু। গ্রাম–গঞ্জের একাধিক রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে এসেছিল গত বর্ষায়। যা নিয়ে কখনও বিক্ষোভ হয়েছিল, তো কখনও পথ অবরোধ। তাই বেহাল রাস্তার শ্রী ফেরাতে একাধিক প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি ‘পথশ্রী-৪’ প্রকল্পে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ৬৮৩টি রাস্তা নির্মাণের অনুমোদন পায়।

    কিন্তু রাস্তা নির্মাণের কাজ কত দূর?

    নির্বাচন ঘোষণা (Assembly Election) হতে আর বেশি দেরি নেই। তাই দ্রুত রাস্তা নির্মাণে জোর দেওয়া হচ্ছে। যাতে তার ‘ফসল’ ভোটবাক্সে তুলতে পারে শাসকদল। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভারানী মাইতি বলছেন, ‘আমরা প্রায় সব রাস্তার টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলেছি। কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। দ্রুত রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্যও বলা হয়েছে।’

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাকে ৬৫৯টি রাস্তার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল পথশ্রী প্রকল্পে। কিন্তু যেহেতু এই জেলার গড়বেতা, চন্দ্রকোণা, ঘাটাল, ডেবরা, সবংয়ের মতো বেশ কিছু এলাকা বর্ষায় জলভাসি হয় এবং গত বর্ষায় বহু রাস্তা ভেঙেছে, তাই পরবর্তীকালে আরও রাস্তার সংখ্যা বাড়িয়ে তা ৬৮৩টি করা হয়। দূরত্বের হিসেবে প্রায় এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। বরাদ্দও হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সেই ৬৮৩টি রাস্তার মধ্যে ৬৮২টি রাস্তাকে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আনতে পেরেছে প্রশাসন। তার মধ্যে ৬৫৩টি রাস্তার টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। ৬৪৪টি রাস্তার ওয়ার্ক অর্ডারও দেওয়া হয়ে গিয়েছে। ২৮টি রাস্তার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। আর ৬৪৪টি রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। রাস্তাগুলি নির্মাণ করছে জেলা পরিষদ, ব্লক প্রশাসন, এসআরডিএ এবং এমবিএল।

    কিন্তু প্রশাসনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের আগে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করা। শাসকদলের এক নেতার কথায়, ‘সময়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ না করতে পারলে ভোট-বাক্সে তার সুফল তোলা কঠিন।’ তাঁর যুক্তি, গত বর্ষায় এই রাস্তাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। কর্দমাক্ত রাস্তায় গাড়ি ঢুকতে না পারায় ডেবরা, সবং, নারায়ণগড় এলাকায় রোগীকে ডুলিতে নিয়ে আসার ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে না পারায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে ডেবরায়। যে ক্ষোভকে কাজে লাগাতে পারে বিরোধীরা। তাতে আখেরে ক্ষতি হবে শাসকদলের।

    যদিও ভোটের আগে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, ‘মানুষকে সহজে বোকা বানানো যাবে না। ভোটের মুখে চমক দিয়ে রাস্তা তৈরির চেষ্টা হলেও দুর্ভোগের কথা মানুষ ভোলেনি। তাছাড়াও রাস্তার মান কতটা উন্নত হবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।’ অন্যদিকে জেলা সভাধিপতি বলছেন, ‘শুধু পথশ্রী প্রকল্পেই নয়, জেলাজুড়ে প্রায় সমস্ত খারাপ রাস্তা সংস্কারে আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর, সংখ্যালঘু দপ্তর থেকে শুরু করে পূর্ত দপ্তরের উদ্যোগে প্রচুর নতুন রাস্তা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে রাস্তার কারণে মানুষকে দুর্ভোগে না পড়তে হয়।’

  • Link to this news (এই সময়)