এই সময়, ঘাটাল: এলাকার মানুষের দাবি মতো বছর চারেক আগে শুরু হয়েছিল শ্মশান চুল্লির কাজ। সেই কাজ টাকার অভাবে থমকে। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে ঘাটালের মানুষের।
ঘাটাল পুরসভার (Ghatal Municipality) বিবেকানন্দ মোড় সংলগ্ন শ্যামপুরে বৈদ্যুতিক চুল্লি তৈরির কাজ শুরু করে পূর্ত দপ্তর (সড়ক)। তার জন্য প্রাথমিক ভাবে ২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। প্রাথমিক ভাবে যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, তাতে দোতলা ভবন তৈরি হয়েছে। চুল্লি, অফিস, রাস্তাঘাট, গাড়ি পার্কিং, বসার জায়গা, পানীয় জল–সহ অন্য পরিকাঠামোর কাজ বাকি।
সেই কাজের জন্য প্রয়োজন আরও টাকা। বছর দু’য়েক আগে টাকা চেয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে চিঠি দেয় পূর্ত দপ্তর। পূর্ত দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘টাকা পেলে বাকি কাজ শুরু করা হবে।’ ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা বলেন, ‘পূর্ত দপ্তর তৈরি করছে, আমরা করিনি। ওদের কাজ সম্পন্ন হলে আমাদের হস্তান্তর করবে। এখনও তা হয়নি। বাকি বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’
বন্যায় বানভাসি হয় ঘাটালের লক্ষাধিক মানুষ। জলের তলায় চলে যায় ঘাটাল ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ঘাটাল পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড। ঘাটাল শহরের উপকন্ঠে এই বৈদ্যুতিক শ্মশান চুল্লি গড়ে উঠলে ঘাটাল–সহ আশপাশের এলাকার মানুষ তা ব্যবহার করতে পারবে। ঘাটালের বাসিন্দা সংগ্রাম সামুই, সত্যেশ্বর জানা বলেন, ‘বন্যার সময়ে কাঁধে করে, ডিঙি বা নৌকা ভাড়া করে মৃতদেহ বয়ে ডাঙা খুঁজে সেখানে দেহ সৎকার করতে হয়। বৈদ্যুতিক চুল্লি হলে এই সমস্যাগুলি মিটবে। অন্তত মরে শান্তি পাবে। কবে কাজ শেষ হয় সেটাই দেখার।’
দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। ঘাটাল বিধানসভায় বিজেপির (BJp) বিধায়ক। এ বারের ভোটে ঘাটাল বিধানসভা বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নিজদের দখলে আনতে উঠেপড়ে লেগেছে শাসকদল তৃণমূল। পিছিয়ে নেই বিজেপি। টাকার অভাবে শ্মশান চুল্লি তৈরির কাজ বন্ধ থাকা নিয়ে ভোটের মরশুমে তৃণমূলকেই দুষছে বিজেপি। ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, ‘যাঁরা দু’কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট বৈদ্যুতিক শ্মশান চুল্লি সময়ে তৈরি করতে পারে না। টাকার অভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেই তৃণমূলের ঘাটালের নেতারা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বড়বড় কথা বলে। এরা উন্নয়নের নামে জনগণের টাকা লুট করে আর মানুষকে ভুল বোঝায়।’
পাল্টা বিজেপি বিধায়ককে একহাত নিয়েছে ঘাটাল ব্লক তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ মাজি।তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শ্মশান চুল্লির প্রয়োজনীয়তা বুঝে আমাদের সরকার তা তৈরির কাজ শুরু করে। টাকা চেয়ে পূর্ত দপ্তর চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ হয়ে গেলে কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। আমরা কাজ শুরু করেছি আমরাই তা শেষ করব।’