• সুপার স্পেশালিটি হবে বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল
    এই সময় | ০৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, বেলপাহাড়ি : আমলাশোল, কাঁকড়াঝোড়, বাঁশপাহাড়ির মতো সীমান্ত এলাকার রোগীদের চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় ২৪ কিলোমিটার দূরের বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে (Belpahari Rural Hospital)। সেখানে সব চিকিৎসা পরিষেবা মেলে না। তাই দীর্ঘদিন ধরেই বেলপাহাড়ির মানুষের দাবি ছিল একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের। শনিবার জেলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো পরিদর্শনে গিয়ে বাসিন্দাদের দাবি মতো সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার কথা বলেন। জানা গিয়েছে, হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সিটি-স্ক্যান, সিসিইউ মতো পরিষেবা থাকবে।

    জানা গিয়েছে, ২০১২–তে ৩০ শয্যা থেকে ৬০ শয্যায় উন্নীত করা হয় বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল। বর্তমানে এখানে স্ত্রী ও প্রসূতি, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, জেনারেল মেডিসিন, দন্ত, চক্ষু, অ্যানাসথেসিস্ট–সহ ১৩ জন চিকিৎসক রয়েছে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি পরীক্ষার পাশাপাশি রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে হাসপাতালটিতে। এক্স-রে মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে সপ্তাহে কেবলমাত্র বৃহস্পতিবার বিনপুর গ্রামীণ হাসপাতাল (Binpur Rural Hospital) থেকে টেকনিশিয়ান নিয়ে এসে এক্স-রে পরিষেবা দেওয়া হয় রোগীদের। ১০ ফেব্রুয়ারি বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ইলেকটিভ সিজ়ার ও ব্লাড স্টোরেজ ইউনিট পরিষেবা চালু করা হয়।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে একজন অ্যানাসথেসিস্ট থাকায় ইলেকটিভ সিজার পরিষেবা চালু করা হয়েছে আগামী দিনে অ্যানাসথেসিয়া সংখ্যা বৃদ্ধি হলে সব ধরনের সিজ়ার পরিষেবা চালু করা হবে। শনিবার বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল দীর্ঘক্ষণ ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্য সচিব। পরে জেলা শাসকের কার্যালয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার সংক্রান্ত একটি বৈঠকও করেন তিনি। তার পরেই জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক ভূবনচন্দ্র হাঁসদা বলেন, ‘জেলার চিকিৎসা পরিষেবা খতিয়ে দেখেছেন প্রধান স্বাস্থ্যসচিব। আগামিদিনে বেলাপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    হাসপাতালে পুরুষ, মহিলা এবং প্রসূতি বিভাগ দু’টি, শিশু বিভাগ–সহ মোট সাতটি ওয়ার্ড রয়েছে। বহির্বিভাগে মেডিসিন, দাঁত ও চক্ষু, শিশুরোগ এবং স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিভাগ থাকায় দৈনিক গড়ে ২৫০ জনের বেশি রোগী পরিষেবা নিতে আসেন। বেলপাহাড়ি ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আওতায় বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল ছাড়াও ওদোলচুয়া ও শিলদা গ্রামীণ প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। যেখানে রোগীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও এড়গোদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কেবলমাত্র চিকিৎসা পরিষেবা পান বাসিন্দারা। এ ছাড়াও, ৫৬ টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের উপরই নির্ভরশীল। ফলস্বরূপ সুপার স্পেশালিটি পদমর্যাদার হাসপাতাল বেলপাহাড়ির বুকে গড়ে উঠলে চিকিৎসা পরিষেবায় অনেকটাই উন্নত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষজন। বেলপাহাড়ির বাসিন্দা মঙ্গল মুড়া বলেন, ‘বেলপাহাড়িতে বড় হাসপাতাল গড়ে উঠলে আমাদের আর চিকিৎসার জন্য ঝাড়গ্রাম ছুটে যেতে হবে না। বাড়ির সামনে উন্নত পরিষেবা পাব।’

  • Link to this news (এই সময়)