• ‘তৃণমূলের ফেক নিউজ় ফ্যাক্টরির কারসাজি...’, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ছবি বিতর্কে গেরুয়া শিবিরের তোপ
    এই সময় | ০৯ মার্চ ২০২৬
  • একটি ছবি ঘিরে উত্তাল কেন্দ্র-রাজ্য রাজনীতি। ওই ছবি দেখিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে (President Droupadi Murmu) অপমানের পাল্টা অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাকেই ‘ফেক’ অর্থাৎ ‘নকল’ বলে দাবি করল গেরুয়া শিবির। এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের আনা অভিযোগকে খারিজ করেছে BJP। পাল্টা ছবি নকল হলে অভিযোগের পরামর্শ জোড়াফুল শিবিরের।

    শনিবার আদিবাসী সম্মেলনে অব্যবস্থা এবং প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে সরব হন খোদ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে অপমানের অভিযোগ নিয়ে আক্রমণ শানায় গেরুয়া শিবির। এর পরেই তৃণমূল সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চড়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। এরই পাল্টা বিজেপি-র প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদবানিকে ‘ভারতরত্ন’ সম্মান প্রদানের মুহূর্তের একটি ছবি তুলে ধরে ধর্নামঞ্চ থেকেই পাল্টা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমো দাবি করেন, ‘আদিবাসী’ রাষ্ট্রপতিকে যথাযোগ্য সম্মান দেননি প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

    ছবিতে দেখা যায় বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদবানিকে ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। সেখানে পাশেই বসে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। রাষ্ট্রপতিকে দাঁড়িয়ে কেন সম্মান জানানো হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। মথুরাপুরের সভা থেকে একই ছবি তুলে ধরে আক্রমণ শানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অভিষেক বলেন, ‘দেশের এমনই দুর্ভাগ্য— রাষ্ট্রপতি পদ, যা রাজনীতির অনেক ঊর্ধ্বে, সেই পদকেও এরা ছাড়ল না। শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে রাজনৈতিক ভাবে আক্রমণ করেছে। তারা বলছে, আমাদের সরকার রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে। কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের স্বার্থে লড়াই করছেন, ধর্নায় বসেছেন। রাষ্ট্রপতিকে রিসিভ করতে যাননি।’ তারই পাল্টা সোমবার এক্স পোস্ট বিজেপির।

    এ দিন এক্স পোস্টে লালকৃষ্ণ আদবানিকে ‘ভারতরত্ন’ সম্মান প্রদানের মুহূর্তের ভিডিয়ো পোস্ট করে বিজেপি দাবি করেছে তৃণমূলের দেখানো ছবিটি নকল। পোস্টে লেখা, ‘TMC-র ভুয়ো খবরের কারখানা আবার সক্রিয়। এখানে শিষ্টাচার ভঙ্গের কোনও ঘটনাই ঘটেনি।’ এখানেই শেষ নয়, গেরুয়া শিবিরের দাবি, কোনও প্রোটোকল ভঙ্গের ঘটনা সেই দিন ঘটেনি। পোস্টে তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে,‘এটা TMC-র তৈরি করা কৃত্রিম ক্ষোভ। এর আড়ালের সত্যিটা হলো—সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী, ভারতরত্ন প্রদান অনুষ্ঠানের সময়ে যাঁরা উপস্থিত থাকেন, তাঁরা আসনেই বসে থাকেন।’

    তৃণমূলের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলে সরব গেরুয়া শিবির। তাদের কথায়, ‘এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, তৃণমূল আবারও ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে এক মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে— যেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতরত্ন (Bharat Ratna) এল কে আদবানি (Lal Krishna Advani)। ভুল তথ্য ছড়ানোর বদলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের মর্যাদা বজায় রাখুন।’

    গেরুয়া শিবিরের এই পোস্টের পর পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এই সময় অনলাইন-কে তিনি বলেন,‘ফেক হলে কমপ্লেনের জায়গা তো আছে, কমপ্লেন করুক BJP। রাষ্ট্রপতির দাঁড়িয়ে থাকা ছবিও আসল, আবার রাষ্ট্রপতির বসে থাকা ছবিও আসল। প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন ও রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন এটাও আসল ছবি। মোটেও মিথ্যা নয়।’

    উল্লেখ্য, যে ছবিকে নিয়ে এত বিতর্ক, সেটি তোলা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ। দিল্লিতে বিজেপির প্রবীণ নেতা ও দেশের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানির বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বয়সজনিত ও অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে ‘ভারতরত্ন’ পুরস্কার নিতে পারেননি লালকৃষ্ণ আদবানি। সেই কারণে তাঁর বাড়িতে এসেই সেই পুরস্কার হাতে তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। সেই সময়ের ছবি ঘিরেই উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। যদিও সেই সময়েও প্রধানমন্ত্রীর বসে থাকা নিয়ে অর্থাৎ এই একই ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিল কংগ্রেসও।

  • Link to this news (এই সময়)