• ইরান যুদ্ধে জ্বালানি থেকে বাণিজ্যে বড় প্রভাবের আশঙ্কা, সংসদে ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থরক্ষার আশ্বাস জয়শঙ্করের
    এই সময় | ০৯ মার্চ ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ায় (Middle East Conflict) যুদ্ধ তুঙ্গে। ইরান ও ইজ়রায়েল-আমেরিকার (Iran Israel USA War) যুদ্ধ ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। এই যুদ্ধের আঁচে পুড়তে চলেছে গোটা দুনিয়া। যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ (Fuel Supply) নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। তেহরানের আশপাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারগুলিতে ইজ়রায়েলের হামলা আরও বাড়িয়েছে চিন্তা। সংসদে সোমবার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই বিরোধীদের হট্টগোলের মাঝেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মানবিকতার খাতিরে ইরানের জাহাজকে আশ্রয় দেওয়া থেকে জ্বালানি সঙ্কট, এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে ভারতীয়দের উদ্ধারের প্রসঙ্গেও বিস্তারিত জানান তিনি।

    সোমবার রাজ্যসভায় পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বলতে উঠে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধে ভারতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে এই যুদ্ধ থামানো উচিত। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে সাপ্লাই চেন-এ গুরুতর প্রভাব পড়ছে।’ তিনি জানান, জ্বালানি সরবরাহ, জাহাজ চলাচলের রুট এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যে যুদ্ধের প্রভাব উদ্বেগজনক। সরকার এই পরিস্থিতিতে নজর রেখেছে এবং সম্ভাব্য প্রভাবও মূল্যায়ন করছে। জয়শঙ্করের কথায়, ভারতের জাতীয় স্বার্থ - যার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভারতীয় উপভোক্তাদের কল্যাণ সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার পাবে।

    সংসদে এদিন বিদেশমন্ত্রী উল্লেখ করেন,‘আমাদের সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতি জারি করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।’ এই প্রসঙ্গে রাজ্যসভায় জয়শঙ্কর জানান, গত ১ মার্চ ভারতের তরফে ইরানের তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনটি ইরানি জাহাজের মধ্যে একটি কেরলের কোচি বন্দরে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। বিপদে পড়া ইরানের জাহাজকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সেই দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এই মুহূর্তে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কঠিন বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

    সাউথ ব্লকের তরফে পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)। সংসদে যুদ্ধের প্রভাব যে সব দেশে রয়েছে, সেই অঞ্চলে বসবাসকারী এবং কর্মরত প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং কল্যাণের উপর সরকারের মনোযোগের কথা তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। হাউসকে তিনি জানান যে, এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কমবেশি ৬৭,০০০ ভারতীয় নাগরিককে পশ্চিম এশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আটকে থাকা সকল ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফেরাতে সব রকমের চেষ্টা করছে সরকার। একইসঙ্গে ইরানে বর্তমানে আটকে থাকা ভারতীয়দের সম্পর্কে বিশেষ উষ্মার সুরও শোনা গেল তাঁর গলায়। বিদেশমন্ত্রী জানান, ভারতের তরফ থেকে আগে একাধিকবার ইরান ছাড়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল সেখানে বসবাসরত ভারতীয়দের। সেই পরামর্শ যাঁরা শোনেননি তাঁরাই এখনও আটকে।

    প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলার পরে, ইরান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে থাকা আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল। আর তাই সেখানে আটকে পড়েছিলেন বহু ভারতীয়। আকাশ আংশিক ভাবে খুলে গেলেও এখনও বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি।

  • Link to this news (এই সময়)