• রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, তবুও দাঁড়িয়ে রয়েছে চণ্ডেশ্বর
    এই সময় | ০৯ মার্চ ২০২৬
  • সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া:

    পুরুলিয়ার লধুড়কার চণ্ডেশ্বর মন্দির— জাতীয় সড়কের ধারে থাকা বিশাল মাঠের মাঝেই প্রাচীন এই দেবালয় দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাঠটি রাজনৈতিক সভা ও জনসমাগমের জন্য সবার নজরে আসে, কিন্তু চণ্ডেশ্বর মন্দিরের (Chandeshwar Temple) খ্যাতি এখনও অনেকটাই ব্রাত্য। নেতারা সভা শেষে চলে যান, কিন্তু মন্দির দর্শনের জন্য কেউ প্রবেশ করেন না। সড়কপথ দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন চললেও মন্দির সম্পর্কে কোনও সূচনা বোর্ড নেই। এককালে এখানে প্রচুর পাথরের মূর্তি ছিল, তবে বেশির ভাগই চুরি হয়ে গিয়েছে। কিছু মূর্তি সংগ্রহশালায় রাখা হলেও মন্দিরের টেরাকোটা ও পাথরের কারুকার্য সিমেন্টের আড়ালে চাপা পড়ে গিয়েছে। তবুও প্রাচীনত্ব বোঝা যায়। পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের (Purulia Ramakrishna Mission) ইতিহাসের শিক্ষক শ্যামল মণ্ডল বলেন, ‘হাজার বছরের পুরোনো হতে পারে মন্দিরটি।

    যদিও কোনও প্রতিষ্ঠালিপি পাওয়া যায়নি। নবম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে এটি স্থাপিত হতে পারে। এককালে জৈন মন্দির হিসেবে পরিচিত ছিল, পরে হিন্দু মন্দিরে রূপান্তরিত হয়। ওডিশার মন্দিরের শৈলির সঙ্গে মিলও লক্ষ্য করা যায়।’ তাঁর অভিযোগ, ‘বেসরকারি উদ্যোগে সংস্কারের সময়ে প্রাচীন মন্দিরের গায়ের কারুকার্যর বেশ কিছুটা অংশ ঢেকে গিয়েছে। মন্দিরের এখনও যেটুকু রয়েছে তা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার।’ তিনি জানালেন, মন্দিরের দেবতা অন্তজ শ্রেণির মানুষের আরাধ্য দেবতা হতে পারেন। সেজন্যই নাম হয়তো চণ্ডেশ্বর। পুরুলিয়ার ইতিহাস গবেষক সুভাষ রায় বলেন, ‘বেশ কিছু মূর্তি হারিয়ে গিয়েছে। পাথরের মকরমুখও উধাও। হরিপদ সাহিত্য মন্দিরের সংগ্রহশালায় দু’টি মূর্তি রাখা হয়েছে— একটি জৈন, একটি হিন্দু। জৈন প্রতিমাটি আদি মিথুন মূর্তি, উভয়ের পাশে শিশুমূর্তিও রয়েছে। চণ্ডেশ্বর নিয়ে আরও গবেষণা করা দরকার।’

    স্থানীয় প্রবীণ কিরীটীভূষণ মুখোপাধ্যায় জানান, শৈশব থেকে এখানে যাতায়াত। মাঝে কিছু খননকাজ হয়েছে, তখন অনেক কিছু বের হয়েছে। এখনও কিছু পাথরের মূর্তি রয়ে গিয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই পুজো হয়, চণ্ডেশ্বর নামে শিবের আরাধনা চলে। গাজনের সময়ে বড় মেলাও বসে। সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার ছাত্রী লধুড়কার বাসিন্দা বর্ষা মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘রক্ষণাবেক্ষণ অনেকটাই অবহেলিত। মন্দিরের আশপাশে সঠিক খনন করলে আরও অনেক প্রাচীন কীর্তি পাওয়া যেতে পারে। পুরাতত্ত্ব বিভাগ যদি চণ্ডেশ্বরকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে, তবে পর্যটকরা এ স্থলও ঘুরে দেখবেন।’ পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের অতিরিক্ত জনসংযোগ আধিকারিক দীপান্বিতা চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রাচীন মন্দির, আদি স্থাপত্য স্পষ্ট। সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করলে মহিমা আরও বাড়বে।’ পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো জানালেন, পুরুলিয়ার সব প্রত্নতাত্ত্বিক স্থলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেখানে উন্নয়ন বাকি রয়েছে, তা সম্পূর্ণ করা হবে।

  • Link to this news (এই সময়)