দাঁড়িয়ে মুর্মু, মোদী বসে চেয়ারে, ছবি দেখালেন মমতা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৯ মার্চ ২০২৬
মমতা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার বিষষে। ধরনা মঞ্চে তিনি একটি ছবি দেখান, যেখানে প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর পাশে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দাঁড়িয়ে রয়েছেন আর প্রধানমন্ত্রী মোদী চেয়ারে বসে আছেন। মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘দেখুন ছবিটা। রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন। কে কাকে অপমান করছে?’
ধর্মতলার ধরনামঞ্চে মমতার সঙ্গে ওই ছবি দেখান বীরবাহা হাঁসদা ও জুন মালিয়া। একই ছবি মথুরাপুরের জনসভায় দেখান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে তৃণমূল সরকার অপমান করেছে। কিন্তু ছবিটা দেখুন—রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে, প্রধানমন্ত্রী চেয়ারে। এই অবস্থায় আসল অপমান হচ্ছে বাংলার মানুষের প্রতি।’ এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কেউ সরাসরি মন্তব্য করবে না। এছাড়া কেন তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তার ব্যাখ্যা প্রশাসনিকভাবে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ শুধু শনিবারেই নয়, রবিবারও চরমে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী দিল্লি থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, ‘আপনি কী করে বললেন কেউ যাননি? মানুষের জন্য আমি ধরনায়। ওখানে শিলিগুড়ির মেয়র ছিলেন।‘ তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজন করেছে এবং এয়ারপোর্ট অথরিটির জায়গায় হওয়ায় রাজ্য সরকারের উপর কোনও দায় আরোপ করা যায় না।
বিতর্কের শুরু হয় শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আগমনকে কেন্দ্র করে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মমতা আমার ছোট বোনের মতো। আমি বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে ভালোবাসি। সম্ভবত মমতা রাগ করেছেন, তাই স্বাগত জানাতে আসেননি।‘ এই মন্তব্যের পরই বিতর্ক দানা বাঁধে। দ্রৌপদী মুর্মুকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রী উপস্থিত না হওয়ায় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এসআইআর নিয়ে ধর্মতলায় প্রতিবাদ সভা হলেও বর্তমানে তা রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।