তালিকা থেকে মোট ৬৩,৬৬,৯৫২ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অথচ নাম বাদ দেওয়ার জন্য ‘ফর্ম-৭’ জমা পড়েছিল মাত্র ৪২,২৫১টি। অর্থাৎ, আবেদন সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ বেশি নাম তালিকা থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচার প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। শাসকদলের অনেক নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রী ও কাউন্সিলরের নামও এই প্রক্রিয়ার আওতায় পড়েছে। এর মধ্যে নৈহাটি পুরসভার কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার ও তার মায়ের নাম, রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, আমডাঙার বিধায়ক রফিকুর রহমান, কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল, চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকার এবং বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ ও তার মায়ের নাম রয়েছে।
তৃণমূলের চিঠিতে ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও রাজীব কুমারের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে চারটি মূল দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:
১. ভোটার তালিকার চূড়ান্ত ক্ষমতা পুনরায় ইআরও ও এআরও-এর হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।
২. ডোমিসাইল সার্টিফিকেট, পঞ্চায়েত নথি ও আবাস যোজনার নথি বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ।
৩. ৬৩ লক্ষেরও বেশি নাম কেন কাটা হল তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বর্তমান ৬০ লক্ষ ঝুলে থাকা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি।
৪. পুরো প্রক্রিয়ার স্বাধীন অডিট করে ডেটা সিকিউরিটি ও কারিগরি ত্রুটি যাচাই।
তৃণমূলের অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপ বা মৌখিক নির্দেশে কমিশনের কাজ হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা লঙ্ঘন। দল জানিয়েছে, এই ‘অসাংবিধানিক’ আচরণের বিরুদ্ধে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালাবে।