আদিবাসী সমাজের অষ্টাদশ শতকের প্রতিবাদী নেতা তিলকা মাঝি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একেবারে প্রথম পর্বের একজন শহিদও তিনি। শনিবার বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় সেই তিলকা মাঝিকেই ঊনবিংশ শতকের বিপ্লবী তথা মুন্ডা বিদ্রোহের নেতা বিরসা মুন্ডার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ এমনটাই। যা নিয়ে চর্চা শুরু মেদিনীপুরে।
‘পরিবর্তন যাত্রা’র রথ কেশপুরে পৌঁছনোর পর তিলকা মাঝির মূর্তিতে যখন বিজেপির প্রথম সারির নেতারা মাল্যদান করেন, সেই সময়েই জয়ধ্বনি ওঠে বিরসা মুন্ডার নামে। কেশপুরের এই ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। কারণ, সেই সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ওডিশার সাংসদ তথা বিজেপির সর্বভারতীয় বিজেপি নেতা রবীন্দ্র নারায়ণ বেহেরা, ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস প্রমুখ। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন।
স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় একদিকে যেমন আদিবাসী সমাজের মানুষ ক্ষুব্ধ, ঠিক তেমনই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার কেশপুরের রাস্তায় নামে তৃণমূলের নেতৃত্ব। এদিন কেশপুর ব্লকের আমড়াকুচি ও বুড়াপাট পাঁচকুরি থেকে দু'টি বাইক র্যালি কেশপুরে পৌঁছয়। একই সঙ্গে কেশপুর বাজার এলাকায় থাকা তিলকা মাঝির মূর্তিতে মাল্যদান করেন তৃণমূল নেতারা।
আদিবাসী সমাজের একাংশের অভিযোগ, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সারির সাঁওতাল আদিবাসী নেতা ও বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী তিলক মাঝিকে চিনতেই পারেনি বিজেপির নেতারা।
কেশপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রদ্যোৎ পাঁজা বলেন, ‘বিজেপির নেতারা শুধু মানুষকে সমস্যায় ফেলতে জানেন। বীর নেতাদের চিনতেও পারেন না। সম্মান জানাতেও পারে না। মানুষ ভোট বাক্সে জবাব দেবে।’ ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, ‘তৃণমূল নোংরা রাজনীতিতে নেমেছে। দু'জনকেই আমরা ভগবান হিসেবেই মানি। একজনের মূর্তির সামনে অন্যজনের নামে স্লোগান দেওয়া যেতেই পারে।’