নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: আবেদনপত্রে লেখা ছিল, বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে নিজ বাসভবনে! অথচ, বিয়ের কার্ডে ভেনু’র উল্লেখই নেই! সন্দেহ হয়েছিল সেখানেই। তারপর সরজমিনে তদন্ত করতেই বেরিয়ে এল আসল তথ্য। জানা গেল, ছাপানো বিয়ের কার্ডটিই ভুয়ো! আবেদনকারী মহিলার বিয়ে হয়ে গিয়েছে একবছর আগেই। কিন্তু রূপশ্রী প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকার লোভেই তিনি নিজের বিয়ে গোপন করে আবেদন করেছিলেন। পরে অবশ্য প্রশাসনের কাছেও অপরাধ স্বীকার করেছেন ওই তরুণী। বিধাননগর পুরসভা কর্তৃপক্ষও ওই ভুয়ো আবেদন বাতিল করেছে। সেই সঙ্গে এই ধরনের বেআইনি কাজ যাতে তিনি আর না করেন, সে ব্যাপারে তাঁকে সতর্কও করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব পরিবারের বার্ষিক আয় দেড় লক্ষ টাকার কম, সেইসব পরিবারের তরুণীরাই রূপশ্রী প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন। পাত্রী ও পাত্র, দু’জনকেই সরকারি হিসাব অনুযায়ী বিবাহযোগ্য হতে হবে। কেবলমাত্র প্রথম বিয়ের জন্য আবেদন করা যায়। বিয়ে হয়ে গেলে আবেদন করা যায় না। দ্বিতীয়বার বিয়ের ক্ষেত্রেও আবেদন গ্রহণ করা হয় না। আবেদন জমা পড়ার পর প্রশাসনের তরফে সরজমিনে খতিয়ে দেখে অনুমোদন দেওয়া হয়। তারপর পাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। আবেদনের সময় ম্যারেজ রেজিস্ট্রির নোটিশ কপি, বিয়ের কার্ডও জমা নেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, এই ভুয়ো আবেদনকারীর বাড়ি বিধাননগর পুরসভার কেষ্টপুরে। একজন বয়স্ক মহিলাকে নিয়ে তিনি সল্টলেকে বিধাননগর পুরসভায় গিয়ে আবেদন করেছিলেন। ওই বয়স্ক মহিলাকে সম্পর্কে তিনি নিজের ঠাকুমা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে জানান, বাবা রিকশচালক এবং মা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। ৯ই মার্চ, ২০২৬ তারিখে তাঁর বিয়ে। রূপশ্রীর অনুদান না পেলে খুবই সমস্যায় পড়বেন। এরপর রূপশ্রী প্রকল্পের কর্মীরা তদন্তে গিয়ে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসা করেন, যাঁর বিয়ে তাঁদের বাড়ি কোনটা? প্রতিবেশীরা আকাশ থেকে পড়েন। বিয়ে? আবেদনে নিজ বাড়িতে বিয়ের কথা বলা হলেও বিয়ের কার্ডে স্থানের উল্লেখ নেই কেন? প্রশাসনের প্রশ্নে ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। সব স্বীকারও করে নেন। তারপরই তাঁর আবেদন বাতিল করা হয়।