পানিহাটি মহাশ্মশানে নতুন বৈদ্যুতিক চুল্লি, সরঞ্জাম পোড়াতে ইনসিনেরেটর
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটি মহাশ্মশানের আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিল পানিহাটি পুরসভা। শবদাহের জন্য নতুন একটি বৈদ্যুতিক চুল্লি নির্মাণ, মৃতের সামগ্রী পোড়ানোর জন্য ইনসিনেরেটর যন্ত্র বসবে। ফেব্রুয়ারি মাসে পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে। ডিপিআর তৈরির কাজও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভোটের আগে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ছ’মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে চাইছে পুর কর্তৃপক্ষ। এই কাজ হলে পানিহাটি বা উত্তর শহরতলি শুধু নয়, বারাসত থেকে শুরু করে দত্তপুকুর পর্যন্ত বিরাট এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।
পানিহাটির গঙ্গার পাড় ঘিরে সাধারণ মানুষের আবেগের অন্ত নেই। এই গঙ্গাপাড় চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিধন্য। পানিহাটি মহাশ্মশানের পাশে রয়েছে মহোৎসবতলা ঘাট। যেখানে মহাপ্রভু, নিত্যানন্দ, শ্রীরামকৃষ্ণ সহ বহু মনীষীর পায়ের ধুলো পড়েছে। তাই প্রিয়জন বিয়োগের পর শহরতলির বড়ো অংশের মানুষ পানিহাটি মহাশ্মশানে দেহ নিয়ে আসার কথা ভাবেন। বর্তমানে দিনে ১৮ থেকে ২০ টির মতো দেহ দাহ হয় এখানে। দত্তপুকুর থেকে বারাসত হয়ে মধ্যমগ্রাম, নিউ বারাকপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা এখানে দাহ করতে দেহ নিয়ে আসেন।
কিন্তু এখনও এখানে আদ্যিকালের চুল্লি ব্যবহার হয় বলে অভিযোগ। ফলে সঠিকভাবে দেহ দাহ হয় না। তার উপর দু’টি চুল্লির মধ্যে একটি বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। ফলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হয় মানুষকে। কিছু মানুষ বাধ্য হয়ে দেহ নিয়ে খড়দহ বা আশপাশের শ্মশানে চলে যান। এই পরিস্থিতি পাল্টাতে পানিহাটি পুরসভা নয়া চুল্লি বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী ভোলানাথ সেন পানিহাটি শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লির শিলান্যাস করেছিলেন। তারপর ২০১৮ সালে আরও একটি বৈদ্যুতিক চুল্লির উদ্বোধন করেন সাংসদ সৌগত রায়। কিন্তু পুরনো চুল্লিটা প্রায়শই থাকে বন্ধ। ফলে অন্য চুল্লিটিতেই দাহ কাজ হয়। পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, ‘পানিহাটি মহাশ্মশানকে আধুনিক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন একটি চুল্লি হবে। খরচ হবে প্রায় দেড় কোটি টাকা। মৃতের সামগ্রী ও অন্যান্য সরঞ্জাম গঙ্গার পাড়ে রেখে দেওয়া হতো। তা থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তার মধ্যে কিছু গঙ্গায় গিয়ে পড়ে। এবার সে সব পোড়ানোর জন্য ইনসিনেরেটর মেশিন বসানো হবে। সেটির জন্য খরচ হবে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।’