নির্বিচারে কাটা হচ্ছে ঝাউগাছ, অস্তিত্ব সংকটে বকখালি পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নামখানার বকখালি পর্যটন কেন্দ্রের ঝাউবন। বিশেষত উমপুনের সময় এই পর্যটন কেন্দ্রের বহু ঝাউগাছ ভেঙে পড়েছিল। একবার জঙ্গলে আগুন লাগার ফলেও অনেক গাছ পুড়ে গিয়েছিল। তারপর ফের বনদপ্তরের উদ্যোগে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় ঝাউগাছ বসানো হয়েছিল। কিন্তু এবার কিছু অসাধু ব্যক্তি সেই ঝাউগাছগুলি রোজ নির্বিচারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বকখালি পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্যই ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে এখানকার ঝাউবনের অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়বে।
মূলত প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অথচ সমুদ্র সৈকতের পাশে গড়ে ওঠা এই ঝাউবনই হল বকখালি পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ। এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বিশ্বেশ্বর প্রামাণিক বলেন, বকখালির সমুদ্রে পলিমাটি জমে যাওয়ার কারণে পর্যটকরা এমনিতেই বিমুখ হয়ে পড়েছেন। ভাটার সময় এখন এখানে স্নান করা যায় না। তবে সমুদ্র সৈকতের পাশে গড়ে ওঠা ঝাউবন হল এখন এই পর্যটন কেন্দ্রের আকর্ষণ। প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে সেই আকর্ষণও হারিয়ে যাচ্ছে। যেভাবে জঙ্গল থেকে ঝাউগাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে আগামী দিনে এই পর্যটন কেন্দ্রের মূল সৌন্দর্যই হারিয়ে যাবে। প্রশাসন ও বনদপ্তর সক্রিয় না হলে, ভবিষ্যতে এখানকার ঝাউবন ধ্বংসই হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, পরিবেশবিদ সৌম্যকান্তি জানা বলেন, ঝাউগাছ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না। উপকূলকে রক্ষাও করে। এই গাছের শিকড় বালিকে আঁকড়ে রাখে। উপকূলের ক্ষয় রোধ করে। এছাড়াও ঝড়ের তাণ্ডব থেকে উপকূলের জনবসতিকে রক্ষা করতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে এই ঝাউবন রক্ষা করা উচিত। এনিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি শ্রীমন্ত মালি বলেন, বিষয়টি শুনেছি। বনদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। গাছ নিধন বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।