নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আবারও নজিরবিহীন সংঘাত! বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে দু’দিনের সফরে রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকালে তাঁরা বৈঠকে বসেন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে। আর সেখানেই এসআইআরে মহিলা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তুমুল বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। অভিযোগ, রীতিমতো উদ্ধত আচরণ করেন তিনি। অপমান করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকেও। এর আগে দিল্লিতে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। এবার কলকাতাতেও সেই এক দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি।
সূত্রের খবর, এদিন সকাল ১১টা বেজে ১৫ মিনিট নাগাদ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম এবং নবনির্বাচিত রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার। সূত্রের খবর, কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে প্রথমেই বক্তব্য রাখতে শুরু করেন চন্দ্রিমা। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তিনি এসআইআরে বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোটারের নাম বাদের তথ্য তুলে ধরে সওয়াল করছিলেন। আর তখনই নাকি জ্ঞানেশ কুমার উদ্ধত ভঙ্গিতে বলে ওঠেন, ‘ডোন্ট শাউট! আপনারাই তো সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন।’ বৈঠক সেরে বেরিয়ে এমনটাই অভিযোগ চন্দ্রিমা ভট্টচার্যের। রাজ্যের মন্ত্রীর আরও দাবি, এরপরেই মাইকের আওয়াজ কমিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁদের পুরো বক্তব্য শেষ করতে না দিয়েই হাতজোড় করে বলে দেওয়া হয় — ‘ইটস ওভার!’
বৈঠক থেকে বেরিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, ‘এসআইআর নিয়ে যে কথাই বলছি না কেন, ওঁরা বলছেন, আমরা কেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি! তা হলে আর আমাদের ডাকলেন কেন? ডেকেছেন যখন, আমাদের কথা তো শুনতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াটা কি আমাদের অন্যায় হয়েছে? বেশ করেছি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। যাব না কেন? মানুষকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’ এরপরেই জ্ঞানেশের আচরণে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। আরও বলেন, ‘আমি মহিলা, আমাকে বলছেন ডোন্ট শাউট! মহিলাদের প্রতি আসলে ওঁদের শ্রদ্ধা নেই। তাই মহিলাদের নামও কেটে দিচ্ছে। আমার নাম না থাকলে সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব তো আপনার! কেন আমাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে? মহিলাদের উপর চেঁচানোটা আপনাদের কাজ নয়।’ এসআইআরের কারণে বাংলায় কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘বিজেপি একটা ধারণা তৈরি করে দিয়েছে যে, এটা রোহিঙ্গা আর অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা। দু’মাসের এসআইআর প্রক্রিয়ায় তো তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেল না। তাহলে এত মৃত্যুর দায় কার? শুধু নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য এত মানুষকে কাজকর্ম ফেলে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমাদের একটাই আবেদন, দেখবেন যেন কোনো ভারতীয় নাগরিক বঞ্চিত না হন।’
এসআইআর নিয়ে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে সরব হয়েছে সিপিএমও। তাদের তরফে বৈঠকে হাজির ছিলেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, রাজ্য কমিটি সদস্য শমীক লাহিড়ী এবং আফরিন বেগম। বেরিয়ে সেলিম বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছি, কমিশন একটা ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে মানুষকে শত্রু বানাল কেন?’ এদিন কমিশনের বৈঠকে বিজেপির প্রতিনিধিরা অবশ্য এসআইআর নিয়ে কোনো কথাই বলেনি। ভোট সংক্রান্ত মোট ১৬ দফা দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সেই তালিকায় অন্যতম — অল্প সময়ের ব্যবধানে সর্বাধিক দু’দফায় ভোট আয়োজনের করতে হবে। দফা কমালেও মানুষের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।