• দুঃসাহস ভালো নয়, জ্ঞানেশকে চ্যালেঞ্জ মমতার
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা ভোটে জেতার জন্য বিজেপি তিনটি ছক কষেছে—প্রথমত, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়া। দ্বিতীয়ত, ইভিএমে কারচুপি। আর তৃতীয়ত, গণনার দিন আগে বিজেপির আসন বেশি দেখিয়ে ভুল বার্তা মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া, আর তারপর ভোটের কাজে নিযুক্ত অফিসারদের ম্যানেজ। ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে গেরুয়া ব্রিগেডের এই কৌশলই ফাঁস করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘সবটাই ছলচাতুরি। বিশ্বস্ত সূত্রে এই তথ্য এসেছে আমার কাছে।’ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের পশ্চিমবঙ্গ সফর, দফায় দফায় বৈঠক এবং তৃণমূলের প্রতিনিধি ও রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’। এই পরিস্থিতিতে কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেলেন তৃণমূল নেত্রী। চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তাঁর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণকে। মমতার হুঁশিয়ারি, ‘সাহস ভালো। দুঃসাহস নয়।’

    এর প্রেক্ষাপট অবশ্যই সোমবার ফুল বেঞ্চের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি এবং আধিকারিকদের বৈঠক। সেখানে রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্তাদের জ্ঞানেশ কুমার ‘থ্রেট’ করেছেন, এমনকি গ্রেপ্তারির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন — এমন তথ্য রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কাছে এসেছে। সেই সূত্রেই মমতা বলেছেন, ‘আপনাকে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, এত দুঃসাহস আপনার ভালো নয়। আপনি নাকি বলেছেন, মে মাসে ভোট মিটে যাওয়ার পর অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন? কিন্তু ভোট মিটে যাওয়ার পর আপনি চেয়ারে থাকবেন তো? মে মাসের পর ভ্যানিশ কুমার আপনার চেয়ারের কী হবে? থাকব তো আমিই।’

    বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে তৃণমূল নেত্রীর ধর্মতলার ধরনা কর্মসূচি সোমবার চতুর্থ দিন অতিক্রম করল। সেই মঞ্চ থেকে লাগাতার কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে চলেছেন তিনি। এদিন তার অভিঘাত আরও বেড়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের আচরণে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তাঁকে ‘সুপার গড’, ‘স্পাইডারম্যান’, ‘মাস্টার অব ভয়েস’, ‘ভ্যানিশিং পাউডার’ জাতীয় বিশেষণে আক্রমণ করেছেন। এমনকি আরও জানিয়ে দেন, ‘এসআইআর প্রক্রিয়ায় অত্যধিক চাপের কারণে বহু বুথ লেভেল অফিসার আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের নিয়ে একটা শব্দ খরচ করার প্রয়োজন মনে করেন না!’

    তাৎপর্যপূর্ণ হল, কলকাতায় আসার পর এদিন সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। মন্দিরে প্রবেশের সময় জ্ঞানেশ কুমারের পা পিছলে যায়—এমন ছবি মমতার কাছে এসেছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘মন্দিরে মাকে দর্শন করতে গিয়ে ফসকে গিয়েছেন। কালীমাও খুশি নন।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘ম-এ মমতা, আর ম-এ মুসলিম দেখলেই আপনাদের কেন এত জ্বালা হয়?’ দলীয় কর্মীদের মমতার আহ্বান, ‘সবাই সতর্ক এবং সজাগ থাকবেন।’ তবে একইসঙ্গে বাংলার অগ্নিকন্যার আশ্বাস, ‘বিজেপি যতই কারসাজি করুক, ভোটে তৃণমূলই জিতবে। আর তারপর দিল্লি থেকে দূর করবে বিজেপিকে।’ বহু রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী ধর্মতলা থেকেই এই শপথ মমতার।
  • Link to this news (বর্তমান)