নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। বৈধ নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ায় ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন জ্ঞানেশ কুমাররা। নিউটাউন থেকে কালীঘাট, কলকাতায় পা রাখার পর থেকেই সর্বত্র কালো পতাকা, গো ব্যাক স্লোগান। পরিস্থিতি যে কমিশনের অনুকূল নয়, সেটা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট ছিল। আর এই আবহে গত কয়েক মাসের যাবতীয় তুঘলকির দায় জেলাশাসকদের উপর চাপিয়ে দিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
সোমবার নিউটাউনে একটি বেসরকারি হোটেলে রাজ্যের সব জেলার ডিএমদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সূত্রের খবর, সেখানে এসআইআর প্রসঙ্গ উঠতেই জেলাশাসকদের কাঠগড়ায় তোলেন জ্ঞানেশ কুমার। ফুল বেঞ্চের তরফে ডিইওদের বলা হয়, তাঁরা নাকি গাইডলাইনের বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন। আর সে কারণেই বিপত্তির মুখে পড়তে হয়েছে কমিশনকে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী যেসব আধিকারিক এই তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের ভোটের কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
যদিও একটি অপরীক্ষিত এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করে ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারকে বিচারাধীন তালিকায় ফেলে দেওয়ার নেপথ্যে ডিইও, ইআরও বা এইআরওদের কী ভূমিকা ছিল, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, প্রযুক্তির পুরো বিষয়টাই নির্ধারিত হয়েছে দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে। কমিশনের তরফে যে লগ ইন আইডি বা সিস্টেম তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল, সেই মতোই কাজ করেছেন রাজ্যের আধিকারিকরা। উপরন্তু তাঁদের উপর নজরদারির জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল মাইক্রো অবজার্ভার, রোল অবজার্ভার ও বিশেষ রোল অবজার্ভার। তা সত্ত্বেও এখন কমিশনের কোপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদেরই। তবে ওই বৈঠকের পর ডিএমদের নিয়ে আলোচনা করেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীও। সেখানে প্রত্যেক অফিসারকেই পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জেলাশাসক ছাড়াও এদিন রাজ্যের পুলিস সুপার ও ভোটের কাজের নিযুক্ত এজেন্সিগুলির নোডাল অফিসারদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে ফুল বেঞ্চ। সূত্রের খবর, সেখানে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দফা কমতে চলেছে (বিজেপি দু’দফায় ভোটের আরজি জানিয়েছে)। ফলে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনোরকম ফাঁক বরদাস্ত করা হবে না। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কমিশন সরাসরি তাঁদের হুমকির সুরে বলেছে, ‘ইচ্ছাকৃত গরমিল বা গাফিলতি প্রমাণ হলে, এমন জায়গায় দাঁড় করাব, যেখান থেকে ফেরার সুযোগ থাকবে না।’ আরও বলা হয়েছে, ‘আজকের রতেই শেষ রাত। কাল থেকেই কাজ শুরু করুন।’ বৈঠক চলাকালীন ‘ধমক’ খেয়েছেন রাজ্য এবং কেন্দ্রের একাধিক আধিকারিক। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওই বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকেও ভর্ৎসনা করেন।