• পোড়া রুটি-ঢেঁড়সের তরকারি খেয়ে বাংলাদেশের জেলে ৯ মাস, সন্তানকে ফিরে পেতে চান ফাল্গুনী
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বনগাঁ: নিজের সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ঠাঁই হয় বাংলাদেশের জেলে। সেখানে দীর্ঘ ন’মাস কাটাতে হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে দেশে ফিরতে পারলেন বনগাঁর বাসিন্দা ফাল্গুনী রায়। বাড়ি ফিরে শোনালেন বাংলাদেশের জেলে থাকার নিদারুণ গল্প।

    জেলে সকালে খেতে দেওয়া হত একটি মাত্র রুটি আর ঢেঁড়স বা বাঁধাকপির বিস্বাদ তরকারি। দুপুর ও রাতে পরিমাণ মেপে ভাত, মাছ ও সকালের সেই বিস্বাদ তরকারিটি। টানা ন’মাস একই খাবার। কোনোমতে দিন কেটেছে ফাল্গুনীর। কুঠুরির চার দেওয়ালের মধ্যে মুক্তির দিন গুনতে গুনতে কাটিয়েছেন কালরাতগুলি। অবশেষে দেশে ফিরে আনন্দে চোখে জল। তবে ছেলের জন্য ব্যাকুলতা কাটেনি। বলেন, ‘ছেলে আমাকে দেখতে চেয়েছিল। আমার কাছে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর বাবা আসতে দেয়নি। আমার বিশ্বাস একদিন আমার কাছে ফিরে আসবেই।’

    প্রায় ১৫ বছর আগে চোরাপথে ভারতে ঢুকেছিলেন বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা এক যুবক। পরিচয় গোপন করে থাকতেন এদেশে। পরিচয় গোপন করেই ফাল্গুনী রায়কে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের এক পুত্রসন্তান হয়। তবে একদিন স্বামীর আসল পরিচয় জানতে পারেন ফাল্গুনী। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে মতান্তর শুরু। হঠাৎ পুত্রকে নিয়ে বাংলাদেশ চলে যান স্বামী। তারপর কোনও সম্পর্কই রাখেননি। এরমধ্যে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন ফাল্গুনীদেবী। কিন্তু প্রথম সন্তানের প্রতি টান কমেনি। সেই ছেলেকে দেখার জন্য ব্যাকুল থাকতেন। কোনোভাবে যোগাযোগ করেন প্রথম স্বামীর সঙ্গে। তারপর স্বামীর ডাকে বাংলাদেশ যান। নিজের ভারতীয় বৈধ পাসপোর্ট নিয়েই পৌঁছন বাংলাদেশ। কিন্তু অভিযোগ, যেতে না যেতেই কেড়ে নেওয়া হয় ভারতীয় পাসপোর্ট। স্বামী ও দেওর একটি ঘরে আটকে রাখেন। বেধড়ক মারধরও করতেন, ছেলের সঙ্গে দেখা করা তো দূর অস্ত। একদিন স্বামীর বাড়ি থেকে পালান ফাল্গুনী। চোরাপথে ভারতে ফিরছিলেন। বাংলাদেশেই ধরা পড়েন। ঠাঁই হয় জেলে।

    রবিবার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকেন ফাল্গুনী রায়। বিএসএফ ও বিজিবির উপস্থিতিতে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফাল্গুনী বলেন, ‘ওদেশে আমার উপর পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি চাই আমার ছেলে আমার কাছে ফিরে আসুক।’
  • Link to this news (বর্তমান)