শাহ ও জ্ঞানেশ এক হোটেলের নির্দিষ্ট ঘরেই কেন উঠছেন, প্রশ্ন অভিষেকের
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একই হোটেল। একই ঘর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মধ্যেকার এই ‘মিল’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, বঙ্গ সফরে দু’জন আলাদা সময়ে আসলেও থাকার ব্যবস্থা কেন একই জায়গায় হল? এই ঘটনার পিছনে অঙ্কটা স্পষ্ট।
বঙ্গ সফরে এসে নিউটাউনের একটি হোটেলে উঠেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এর আগে একাধিকবার বাংলায় এসে ওই হোটেলেই উঠেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগ রয়েছে, এমনই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য শোনা গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। সোমবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে মমতার পর বক্তব্য রাখেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘কলকাতা শহরে কমপক্ষে ৫ হাজার হোটেল রয়েছে। সবক’টি হোটেল ধরলে ঘরের সংখ্যা হবে আড়াই লক্ষ। কিন্তু এর আগে অমিত শাহ যে হোটেলে উঠেছিলেন, যে ঘরে ছিলেন, সেই হোটেলের ওই ঘরেই থাকলেন জ্ঞানেশ কুমার। এটা কাকতলীয় হতে পারে না।’
নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির ‘সহকারী সংস্থা’ হিসাবে আগেই তকমা দিয়েছেন তৃণমূলের সেনাপতি। সেই সূত্র ধরেই এদিন অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে চড়া সুরে আক্রমণ শানান অভিষেক। তিনি বলেন, ‘কলকাতায় এসে জ্ঞানেশ কুমার এমনভাবে হাত তুলছেন, যেন বিশ্বকাপ জয় করে এসেছেন। কিন্তু বিজেপির কথায় জ্ঞানেশ কুমার যে কাজ করেছেন, তাতে এরাজ্যের প্রায় ২০০ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। এরপর আর জ্ঞানেশ কুমারের হাত তোলা সাজে না। বাংলার মানুষের কাছে ওঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও দু’টি খোলা চ্যালেঞ্জ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি। অভিষেকের বক্তব্য, প্রত্যেক পরিবারের একজন করে রাজনীতি করবে। সাহস থাকলে এই বিল সংসদে আনুন অমিত শাহ। আমি নিজে তাতে স্বাক্ষর করব। দ্বিতীয়ত, অমিত শাহ নিজে জেল খেটেছেন। ফলে তাঁর মুখে সততার কথা মানায় না। তিনি আগে পদত্যাগ করুন, তারপর অন্য দলের লোক রাজনীতিতে প্রার্থী হবে কি না, সেই প্রশ্ন তুলবেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ বিজেপিকে শাস্তি দেবে বলে জানান তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন প্রতিবাদের ভোট, প্রতিরোধের ভোট। বাংলার মানুষের কাছে একটাই দাবি, বিজেপিকে শূন্য করতে হবে।’ পাশাপাশি গেরুয়া শিবিরের অভিসন্ধি নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তিনি জানান, প্রথমে ভোটার তালিকায় বাংলার মানুষের নাম কেটেছে বিজেপি। এরপর ব্যাংক অ্যকাউন্টে কেওয়াইসির নাম করে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ওই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেবে এবং টাকা হাপিস করবে।
এদিন ধরনা মঞ্চেই মমতাকে আর শরীর খারাপ না করার অনুরোধ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আপনি রাস্তায় থাকতে চান। কিন্তু বাংলার মানুষের জন্য আপনাকে আরো লড়াই করতে হবে। তাই শরীর খারাপ করবেন না। একটু দেখুন। তৃণমূলের ছাত্র, যুবরা আছে। তাঁরা সব আন্দোলন বুঝে নেবে।’