ভোটের আগে বুথ সংগঠন চাঙা করছে বসিরহাট তৃণমূল, নিয়মিত ঘরোয়া বৈঠক
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করতে মাঠে নেমেছে বসিরহাট তৃণমূল। তাই বড়ো মাপের সভা-সমাবেশ নয়। আপাতত বুথস্তরের সংগঠনকে চাঙা করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দলীয় নেতৃত্বের বার্তা, আগামী লড়াইয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে রয়েছে বুথে বুথে সংগঠনের ভিত শক্ত করার মধ্যে। তাই এখন থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বুথ ধরে ধরে কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় করার কাজ শুরু হয়েছে জোড়া ফুল শিবিরে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণের প্রশ্নকে সামনে এনে সংগঠনকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, নানা অজুহাতে বহু সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বা ঝুলে থাকছে যাচাইয়ের অজুহাতে। এই বিষয়কে সামনে রেখে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে চাইছে তৃণমূল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাই করা, নাম বাদ পড়লে তা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা—এইসব কাজে এখন ব্যস্ত বুথস্তরের কর্মীরা। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা বসিরহাটে এই সমস্যা আরও প্রকট বলে দাবি দলীয় নেতাদের। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় এই অঞ্চলে বহু মানুষের নাম নিয়ে আপত্তি তোলা হচ্ছে বা তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। ফলে এখানে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
জেলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে নিচুতলার নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেসব মানুষের নাম বাদ পড়েছে বা বিচারাধীন রয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তার পথ দেখাতে। তৃণমূলের দাবি, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনো চেষ্টা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাই এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে চাইছে দল। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এবং তাঁদের সমস্যাকে সংগঠনের আলোচনার কেন্দ্রে আনতে। এতে যেমন মানুষের আস্থা বাড়বে, তেমনই সংগঠনের ভিত্তিও আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গও সংগঠন বৃদ্ধির অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা উপেক্ষা করে বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের সরকার মানুষের বাড়ি তৈরির জন্য টাকা দিচ্ছেন বিষয়টি ছোটো সভার মাধ্যমে প্রচারের কথা বলা হয়েছে। এনিয়ে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বুরহানুল মোকাদ্দিম ওরফে লিটন বলেন, দলের নির্দেশ মতো আমরা এখন ছোটো ছোটো করে কর্মসূচি করছি। যেহেতু ভোট কিছুটা দেরি আছে, তাই আমরা বুথ ধরে সংগঠন নতুন করে ঝালিয়ে নিচ্ছি। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলায় আমরা সব বিধানসভায় জিতব তা নিশ্চিত। অন্যদিকে, বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকারের দাবি, এবার নিঃশব্দে ভোট হবে। মানুষ তৃণমূলকে বিদায় জানানোর জন্য প্রস্তুত।