• সংস্কারের নামে অবরুদ্ধ হাওড়া বাসস্ট্যান্ড, খোলা আকাশের নীচেই অপেক্ষা যাত্রীদের
    বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া রেল স্টেশন লাগোয়া পুরানো বাসস্ট্যান্ড একসময় ছিল শহরের অন্যতম ব্যস্ত পরিবহণ কেন্দ্র। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার যাত্রীর আনাগোনায় মুখর থাকত গোটা চত্বর। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া বেসরকারি বাসগুলির বড়ো অংশই এখান থেকে ছাড়ত। কিন্তু সেই চেনা চিত্র এখন অতীত। গত বছরের অক্টোবর মাসে বাসস্ট্যান্ডের কংক্রিটের ছাউনি ভেঙে পড়ার পর থেকেই পুরো এলাকাটি টিন ও বাঁশের কাঠামো দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাসগুলিকে স্ট্যান্ডের বাইরে রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলতে হচ্ছে। বাস ধরতে আসা মানুষজনকেও বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নীচে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে নিত্যদিন ভোগান্তি হচ্ছে যাত্রীদের। কবে বাসস্ট্যান্ড সংস্কারের কাজ শেষ হবে, তা কেউ জানে না।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাসস্ট্যান্ডের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেএমডিএ’র। দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় গোটা কাঠামোই জীর্ণ হয়ে পড়েছে। সংস্থার দাবি, শুধু ভেঙে পড়া অংশ মেরামত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পুরো বাসস্ট্যান্ডেরই সংস্কার প্রয়োজন। সেই কাজ শুরু করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলে জানা গিয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আপাতত বাসস্ট্যান্ড বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত শতাব্দীর ছ’য়ের দশকে হাওড়া ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে এই বাসস্ট্যান্ডটি তৈরি হয়েছিল। পরে এর দায়িত্বভার যায় কেএমডিএ’র হাতে। আর্চ আকৃতির কংক্রিটের ছাউনির বহু জায়গায় পলেস্তরা খসে লোহার রড বেরিয়ে পড়েছে। বড়ো বড়ো ফাটল দেখা দিয়েছে। মাঝেমধ্যেই ছাউনির অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটছে। সেই কারণেই দুর্ঘটনা এড়াতে বাসস্ট্যান্ডটি আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এই বাসস্ট্যান্ড থেকেই ডোমজুড়, ঝিখিরা, গাদিয়াড়া, বাগনান, আমতা, আলমপুর, সালকিয়া ও শিবপুর সহ একাধিক রুটে বাস চলাচল করত। পাশাপাশি একটি অংশে অটো দাঁড়াত। এখন সেই পরিষেবা কার্যত রাস্তার উপরেই চলছে। যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, বাস ধরতে এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বাসিন্দাদের অনেকেই বলেন, আগে অন্তত ছাউনির নীচে অপেক্ষা করা যেত। এখন বাস এলেই হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছে। প্রবীণ যাত্রী দেবব্রত মৌলিকের কথায়, রোদ-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই কষ্টকর, অথচ কবে সংস্কারের কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হচ্ছে না। এদিকে বাসস্ট্যান্ড বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় দোকানদার ও হকাররা। তাঁদের অভিযোগ, দোকানের সামনে যাত্রীদের ভিড় ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায় বড়ো ধাক্কা লেগেছে। খদ্দের কমছে।
  • Link to this news (বর্তমান)