বাইক র্যালিতে জনসংযোগ! নিয়ম ভাঙার খেলায় রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মীরা
বর্তমান | ১০ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: লক্ষ্য বাইক র্যালির মাধ্যমে জনসংযোগ। এভাবে জনসংযোগ করতে গিয়ে নিয়ম ভাঙার খেলায় মেতেছে রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে কর্মীরা। মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে জনপ্রতিনিধি— নিয়ম ভাঙার খেলায় বাদ নেই কেউ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা হেলমেট ছাড়াই বাইক চালাচ্ছেন বা বাইকের পিছনে সওয়ার হচ্ছেন। তাঁদের পিছনে দলের কর্মীরাও সমানতালে বাইক নিয়ে চলেছেন বিনা হেলমেটে। পুলিশ সব দেখেও নিশ্চুপ। উর্দিধারীরা সবক শেখাতে ব্যস্ত সাধারণ মানুষকে।
এসব দেখে সাধারণ মানুষের বক্তব্য, নেতা-মন্ত্রীরা হেলমেট ছাড়া বাইকে চড়লে দোষ নেই। যত দোষ আমাদের! ‘সেভ ড্রাইভ, সেফ লাইফ’ অনুষ্ঠানে গিয়ে এইসব নেতা-মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধিদের দেখা যায় সাধারণ মানুষকে হেলমেট পরার ব্যাপারে সচেতন করতে।
বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তার আগেই রাজনৈতিক দলগুলি কোমর বেঁধে জনসংযোগে নেমে পড়েছে। অপেক্ষাকৃত কম সময়ে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে পদযাত্রার তুলনায় বাইক র্যালির বিকল্প নেই। তাই বাইককেই পছন্দের তালিকায় প্রথমে রেখেছে রাজনৈতিক দলগুলি। কয়েকদিন আগে হেলমেট ছাড়াই বাইক নিয়ে জনসংযোগ করতে দেখা গিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে। তেমনই রবিবার শ্যামপুর বিধানসভা এলাকায় হেলমেট ছাড়া বাইকে চেপে জনসংযোগ করতে দেখা যায় বিধায়ক কালীপদ মণ্ডল, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ জুলফিকার আলি মোল্লা সহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের। এদিন উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে একইভাবে বাইকে চেপে ঘুরতে দেখা যায় স্থানীয় বিধায়ক নির্মল মাজিকে। জনপ্রতিনিধিরা এভাবে হেলমেট ছাড়া বাইকে চড়ায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। তাঁদের মতে হেলমেট ছাড়া বাইকে চড়লে যে কোনো সময়ে বিপদ হতে পারে। বিশেষ করে শ্যামপুরের বিধায়ক ও উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক যেভাবে বাইকের পিছনে বসে দু’হাত তুলে জনসংযোগ করছেন, তাতে যে কোনো সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
উলুবেড়িয়া আনন্দভবন ডেফ অ্যান্ড ব্লাইন্ড স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় দাস বলেন, নিয়ম সকলের ক্ষেত্রে সমান হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষকে যেমন হেলমেট পরে বাইক চালাতে হয়, তেমনই জনপ্রতিনিধিদেরও হেলমেট পরা উচিত। এ প্রসঙ্গে হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ জুলফিকার আলি মোল্লা বলেন, বাইকে চড়ার সময় আমাদের সকলেরই হেলমেট পরা উচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকব। বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলার সভাপতি দেবাশিস সামন্ত বলেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থেই বাইকে চড়ার সময় হেলমেট পরা প্রয়োজন। আমরা দলের সমস্ত নেতা-কর্মীদের হেলমেট পরে প্রচারে যেতে অনুরোধ করব।